২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তিতে আবেদন করেও ২ হাজার ২০৫ জন শিক্ষার্থী কোনো কলেজে ভর্তির জন্য মনোনীত হয়নি। সর্বোচ্চ ফল অর্জন করেও কেন তারা কলেজে আসন বরাদ্দ পেল না এবং তাদের ভর্তিপ্রক্রিয়া কীভাবে হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
একাদশে ভর্তির জন্য এসএসসি পাশ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অনলাইনে আবেদন নেওয়া হয়। সেখানে সর্বনিম্ন পাঁচটি এবং সর্বোচ্চ ১০টি কলেজে চয়েজ বা পছন্দক্রম দিতে পারে শিক্ষার্থীরা। সেখান থেকে এসএসসির ফল বিবেচনায় নিয়ে তাদের কলেজ মনোনয়ন দেওয়া হয়।
উদাহরণস্বরূপ: কোনো শিক্ষার্থী যদি তার পছন্দের তালিকায় ১ নম্বরে রাখে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ। তাহলে ওই কলেজে কতসংখ্যক আসন ফাঁকা রয়েছে এবং শিক্ষার্থীর ফলাফল অনুযায়ী অন্যদের চেয়ে তার অবস্থান কী, তা বিবেচনা করা হয়। যদি তার চেয়েও ভালো ফল বা বেশি নম্বর থাকা শিক্ষার্থীরা ভিকারুননিসা কলেজ পছন্দক্রমে দেয়, তাহলে তাকে ওই কলেজ বরাদ্দ দেওয়া হয় না।
তার পছন্দক্রম ২ নম্বরে কোন কলেজ তা বিবেচনা করা হয়। এভাবে একের পর এক পছন্দক্রম বিবেচনায় নিয়ে এবং এসএসসির ফল বিশ্লেষণ করে একজন শিক্ষার্থীকে আসন বরাদ্দ দেওয়া হয়।
ভর্তি-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, অনেক শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পাওয়ায় তারা শুধু ভালো ২-৩টি কলেজ পছন্দক্রমে দেন। সেই কলেজগুলোতে তীব্র প্রতিযোগিতা হয়। সেখানে দেখা যায়, জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ছাড়া কেউ সেখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় টিকছে না। এমনকি জিপিএ-৫ পেলেও নম্বর কম-বেশির কারণে কেউ পছন্দের কলেজ পায়, আবার কেউ পায় না। ঠিক এ কারণেই ২ হাজার ২০৫ জন জিপিএ-৫ পেয়েও কলেজ পায়নি।
শিক্ষা বোর্ড কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ওই শিক্ষার্থীরাও ভর্তির সুযোগ পাবে। তবে আবেদনের সময় তারা কম কলেজে চয়েজ (পছন্দক্রম) দেওয়ায় এ সমস্যায় পড়েছে। পরবর্তীতে আসন শূন্য থাকা সাপেক্ষে তাদের পছন্দের কলেজে অথবা নতুন করে পছন্দক্রম নিয়ে তাদের জন্য আসন বরাদ্দ দেওয়া হবে।
প্রকাশিত ফলে দেখা গেছে, প্রথম ধাপে মোট ৯ লাখ ৮০ হাজার ৮১৫ শিক্ষার্থী কলেজে ভর্তির জন্য মনোনয়ন পেয়েছেন। তবে জিপিএ-৫ পাওয়া ২ হাজার ২০৫ শিক্ষার্থী এবার কোনো কলেজে ভর্তির জন্য মনোনয়ন পাননি।
বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, গত ২ সেপ্টেম্বর অনলাইনে একাদশ শ্রেণির ভর্তি আবেদন শুরু হয়। আবেদনগ্রহণ শেষ হয় ১৩ সেপ্টেম্বর রাত ৮টায়। ভর্তি নির্দেশিকা অনুযায়ী, একজন শিক্ষার্থী সর্বনিম্ন পাঁচটি এবং সর্বোচ্চ ১০টি কলেজ পছন্দ দিতে পেরেছেন। এবার মোট ৯ লাখ ৯৫ হাজার ২৩৪ জন শিক্ষার্থী একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য আবেদন করেন।
ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের ক্লাস শুরু হবে আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর। এর আগে ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে ক্লাস শুরুর কথা ছিল। তবে পবিত্র ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম উপলক্ষে ওইদিন দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি থাকায় ক্লাস শুরুর তারিখ একদিন পিছিয়ে দেওয়া হয়।






