ঢাকা | বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬,২৩ আশ্বিন ১৪৩৩

১১ তারিখে হচ্ছে না পদায়ন, কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি নবনিযুক্ত শিক্ষকদের

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ‘সহকারী শিক্ষক নিয়োগ ২০২৫’-এর আওতায় নবনিযুক্ত শিক্ষকদের পদায়নের সময়সীমা আরো এক দফায় বাড়ানো হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ১১ অক্টোবরের পরিবর্তে ১৮ অক্টোবর নির্ধারণ করা হয়েছে। একইসঙ্গে ওরিয়েন্টেশন প্রশিক্ষণ ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত সময় বর্ধিত করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে এক আদেশে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরকে ওই আদেশে অনুরোধ করা হয়েছে।

এর আগে গত ১ অক্টোবর নিজ নিজ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ে প্রার্থীরা আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান সম্পন্ন করেছেন। ৪ অক্টোবর পদায়নের তারিখ ছিল। তবে সেটি প্রথম দফায় পিছিয়ে গেলেও ৪ অক্টোবর শুরু হয় নতুন শিক্ষকদের পাঁচ দিনব্যাপী পরিচিতি পর্ব বা ওরিয়েন্টেশন। ৪ অক্টোবর থেকে প্রথমবার পদায়নের তারিখ পেছনে নিয়ে ১১ অক্টোবর করা হয়েছিল। এবার সেটি আরও এক দফায় বাড়িয়ে ১৮ অক্টোবর নির্ধারণ করা হয়েছে।

অপরদিকে ১১ অক্টোবরের মধ্যে পদায়ন না হলে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন নবনিয়োগপ্রাপ্ত প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ-২০২৫ ব্যাচ। তারা বলছেন, দীর্ঘ ৮ মাস ধরে নিয়োগের পরও অনিশ্চয়তা, অপেক্ষা ও সীমাহীন হয়রানি সহ্য করে আসছি। আমাদের ধৈর্যেরও একটি সীমা আছে। চাকরিতে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার পরও নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে আমাদের ৩ দফায় শাহবাগ ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে কর্মসূচি পালন, একাধিকবার অধিদপ্তর ও মন্ত্রণালয়ের দ্বারে দ্বারে ঘোরাসহ সর্বোচ্চ পর্যায়ের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একাধিকবার সাক্ষাৎ করতে হয়েছে। প্রতিবারই আমরা দায়িত্বশীল ও শান্তিপূর্ণ আচরণ করেছি এবং কর্তৃপক্ষকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছি।

অবশেষে গত ২ আগস্ট প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অফিস আদেশে ১ অক্টোবর যোগদান এবং ৪ অক্টোবর পদায়নের বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়। সরকারি তথ্য অধিদপ্তর (পিআইডি)-এর মাধ্যমেও বিষয়টি প্রচার করা হয়। কিন্তু এরপর আবারও শুরু হয় নতুন নাটক।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরবর্তী নির্দেশনায় ৪ অক্টোবরের পদায়ন ১১ অক্টোবর করা হয় এবং আমাদের জন্য ৫ দিনের ওরিয়েন্টেশন প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়। সেই প্রশিক্ষণেও ছিল চরম অব্যবস্থাপনা। কোনো সরকারি বরাদ্দ নেই, অধিকাংশ স্থানে খাবারের ন্যূনতম ব্যবস্থাও নেই। অনেক প্রশিক্ষণার্থীকে নিজেদের অর্থ ব্যয়ে এবং পর্যাপ্ত খাবারের ব্যবস্থা ছাড়াই প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করতে হয়েছে। তারপরও আমরা কোনো অভিযোগ না তুলে নিজেদের অর্থ, সময় ও শ্রম ব্যয় করে ৫ দিনের প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছি। বিভিন্ন জেলায় প্রশিক্ষণের সমাপনী অনুষ্ঠান হয়েছে, প্রশিক্ষণ সনদও দেওয়া হয়েছে।

কিন্তু প্রশিক্ষণ শেষ হওয়ার পর আবারও হঠাৎ করে বিদ্যালয় শাখা-২ থেকে প্রশিক্ষণের মেয়াদ বৃদ্ধি এবং পদায়নের তারিখ ১১ অক্টোবর থেকে ১৮ অক্টোবর করার সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে। এটি শুধু সিদ্ধান্তের পরিবর্তন নয়—এটি হাজার হাজার নবনিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকের সঙ্গে ধারাবাহিক অনিশ্চয়তার সৃষ্টি।

আরও প্রশ্নবিদ্ধ বিষয় হলো, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, মাগুরাসহ কয়েকটি জেলায় ইতোমধ্যে পদায়ন দেয়া হয়েছে। তাহলে একই ব্যাচের অন্য জেলাগুলোর ক্ষেত্রে কেন বারবার নতুন তারিখ ঘোষণা করা হচ্ছে?

তারা আরও বলছেন, এসব ঘটনায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতি সম্পর্কে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। আর সেই সমন্বয়হীনতার মূল্য কেন ১৪,৩৮৪ জন নবনিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষককে দিতে হবে?

এ সময় ৪ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়—

১. আগামীকালের সব ওরিয়েন্টেশন প্রশিক্ষণ ৬১ জেলার সব উপজেলায় বয়কট করা হলো।

২. আগামী শনিবার দুপুর ২টায় অধিদপ্তরের সামনে একযোগে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করা হবে।

৩. ১১ অক্টোবরের মধ্যে সব নবনিয়োগপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকের পদায়ন নিশ্চিত করার দাবি জানানো হচ্ছে।

৪. এর ব্যত্যয় ঘটলে ১১ তারিখ সকাল ১০টা থেকে প্রত্যেক জেলা শিক্ষা অফিসের সামনে পদায়ন না পাওয়া পর্যন্ত লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি পালিত হবে।