ঢাকা | মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬,৩ ভাদ্র ১৪৩৩

নেপালের সেনাবাহিনীর ‘জেনারেল’ হলেন ভারতীয় সেনাপ্রধান

নেপালের সেনাবাহিনীর ‘জেনারেল’ হয়েছেন ভারতের সেনাপ্রধান জেনারেল ধীরাজ শেঠ। সোমবার (১৭ আগস্ট) কাঠমান্ডুর শীতল নিবাসে এক অনুষ্ঠানে নেপালের প্রেসিডেন্ট রামচন্দ্র পৌডেল তাকে এই সম্মানসূচক পদমর্যাদা দেন। দুই দেশের সেনাপ্রধানকে পরস্পরের সম্মানসূচক জেনারেল করার দীর্ঘদিনের রীতির অংশ হিসেবে তাকে এ পদমর্যাদা দেয়া হলো।

সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে বলছে, নেপালের সেনাপ্রধান জেনারেল অশোক রাজ সিগদেলের আমন্ত্রণে চার দিনের সরকারি সফরে বর্তমানে দেশটিতে রয়েছেন জেনারেল শেঠ।

১৯৫০ সালে এই প্রথা চালু হওয়ার পর থেকে ভারত ও নেপাল একে অপরের সেনাপ্রধানকে সম্মানসূচক জেনারেল পদমর্যাদা দিয়ে আসছে। সফরে জেনারেল শেঠ নেপালের সেনাপ্রধান জেনারেল সিগদেলের সঙ্গেও বৈঠক করেন। সেখানে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় এবং সামরিক সম্পর্ক আরও জোরদারের উপায় নিয়ে আলোচনা হয়।

নেপালের প্রেসিডেন্টের সচিবালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অনুষ্ঠানে দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট রাম সাহায় প্রসাদ যাদব, পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল, নেপালে নিযুক্ত ভারতের রাষ্ট্রদূত নবীন শ্রীবাস্তব এবং নেপাল সেনাবাহিনী ও সরকারের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে গত রোববার নেপালে পৌঁছান জেনারেল শেঠ।

ভারতীয় দূতাবাস জানিয়েছে, ভারতীয় সেনাপ্রধানের নেপাল সফরের মধ্য দিয়ে দুই দেশের দীর্ঘদিনের বিশেষ প্রতিরক্ষা সম্পর্কের বিষয়টি আবারও সামনে এসেছে। অভিন্ন মূল্যবোধ, পারস্পরিক আস্থা এবং দুই দেশের সেনাবাহিনীর দীর্ঘদিনের সম্পর্কের ওপর এই প্রতিরক্ষা সম্পর্ক গড়ে উঠেছে।

জেনারেল ধীরাজ শেঠ ভারতীয় দূতাবাসে রাষ্ট্রদূত নবীন শ্রীবাস্তবের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন। এ সময় নয়াদিল্লি ও কাঠমান্ডুর সামগ্রিক সম্পর্ক আরও জোরদারের উপায় নিয়ে তারা আলোচনা করেন বলে দূতাবাস জানিয়েছে।

এদিকে সোমবার জেনারেল শেঠ নেপাল সেনাবাহিনীর কাছে সামরিক ও চিকিৎসা সরঞ্জামও হস্তান্তর করেন। নেপাল সেনাবাহিনীর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, তিনি সেনা সদর দপ্তর প্রাঙ্গণে একটি গাছের চারা রোপণ করেন। পরে তিনি গার্ড অব অনার গ্রহণ ও পরিদর্শন করেন।

নেপালের সেনাবাহিনী বলেছে, ‘জেনারেল ধীরাজ শেঠের এই সফর নেপাল ও ভারতের সেনাবাহিনীর মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতা আরও জোরদার করবে বলে আশা করা হচ্ছে।’

জেনারেল শেঠের এই সফরে সম্মানসূচক জেনারেল পদমর্যাদা প্রদান, সামরিক বৈঠক, কূটনৈতিক আলোচনা এবং সামরিক ও চিকিৎসা সরঞ্জাম হস্তান্তরের মতো বিভিন্ন কর্মসূচি ছিল। এসব কর্মসূচির মধ্য দিয়ে ভারত ও নেপালের চলমান প্রতিরক্ষা সম্পর্কের বিষয়টি আবারও স্পষ্ট হয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।