জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জাকসু) কার্যকাল আগামী সেপ্টেম্বর মাসেই শেষ হতে যাচ্ছে। এদিকে ছাত্রত্ব শেষ হলেও, প্রশাসন কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় বহাল তবিয়তে হলে অবস্থান করছেন জাকসুর ভিপি আবদুর রশিদ জিতু। এছাড়াও আরও দুজন জাকসু সদস্যের ছাত্রত্ব শেষ হলেও হল না ছাড়ার প্রমাণ মিলেছে। তবে তারা শীঘ্রই হল ছেড়ে দেবেন বলে জানিয়েছেন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ছাত্রত্ব শেষ হওয়া এই তিন নেতার তালিকায় রয়েছেন আল-বেরুনী হলের আবাসিক শিক্ষার্থী ও জাকসু ভিপি আবদুর রশিদ জিতু, ফজিলাতুন্নেছা হলের আবাসিক শিক্ষার্থী জাকসু এজিএস (নারী) আয়েশা সিদ্দিকা মেঘলা এবং ফেলানী খাতুন হলের আবাসিক শিক্ষার্থী ও সহকারী ক্রীড়া সম্পাদক ফারহানা আক্তার লুবনা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী আবাসিক হলসমূহ শুধুমাত্র বৈধ ও নিয়মিত শিক্ষার্থীদের জন্য সংরক্ষিত থাকার কথা থাকলেও, আসন্ন সেপ্টেম্বরে জাকসুর মেয়াদ শেষ হওয়ার সুবাদে এই অছাত্র নেতারা কৌশলে পার পেয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, প্রশাসনের এমন নমনীয় ও উদাসীন ভূমিকা অছাত্রদের হলে বসবাসের পথ সুগম করে দিয়েছে।
তবে এর ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন জাকসু জিএস মাজহারুল ইসলাম। তিনি ছাত্রত্ব শেষ হওয়ার আগেই মওলানা ভাসানী হলের আবাসিক আসন ছেড়ে দেন। কিন্তু বাকি তিন নেতার মেয়াদ শেষের এই সময়টাতেও হলে অবস্থান করার বিষয়টি ক্যাম্পাসের সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে তীব্র অসন্তোষ তৈরি করেছে।
অভিযুক্ত জাকসু ভিপির বক্তব্য নেওয়ার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এ বিষয়ে জাকসু এজিএস আয়েশা সিদ্দিকা মেঘলা বলেন, ব্যক্তিগত কিছু জিনিসপত্র ইতোমধ্যে হল থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং বাকি মালামাল শিগগিরই সরিয়ে ফেলা হবে। এছাড়া তিনি দীর্ঘদিন ধরে হলে অবস্থান করছেন না বলেও দাবি করেন।
অন্যদিকে, ফারহানা আক্তার লুবনা জানান, মাস্টার্স ফাইনাল পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর চাকরির প্রস্তুতি নিতে তিনি বাসায় চলে গিয়েছিলেন, যার কারণে পুরোপুরি জিনিসপত্র গুছিয়ে শিফট করা সম্ভব হয়নি। খুব শীঘ্রই তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে হল ত্যাগ করবেন বলে আশ্বস্ত করেন।
‘খুব শীঘ্রই’ বলতে কতদিন এটা জিজ্ঞেস করলে দুই নারী সদস্যই জানিয়েছেন এক মাসের মধ্যেই ওনারা অফিসিয়ালি হল ছেড়ে দেবেন।
এই ইস্যু নিয়ে জাতীয় ছাত্রশক্তির (জাবি) সভাপতি জিয়া উদ্দিন আয়ান অভিযোগ করে বলেন, জাকসুর মেয়াদ শেষ হওয়ার অপেক্ষায় থেকে প্রশাসন মূলত কালক্ষেপণ করছে, যাতে অছাত্ররা সহজেই নিয়ম ভেঙে হলে থেকে যাওয়ার সুযোগ পেয়ে যায়।
ছাত্রত্ব শেষ হওয়ার পরও শিবির প্যানেলের দুই নেত্রীর হল না ছাড়ার বিষয়ে জাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) মাজহারুল ইসলাম বলেন, সবার ক্ষেত্রেই একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে। আশা করছি, তারা খুব শীঘ্রই নিজ দায়িত্বে হল ত্যাগ করবেন।
প্রশাসনকে দেওয়া আল্টিমেটামের সময়সীমা পার হওয়ার পরও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা প্রসঙ্গে মাজহার জানান, এ বিষয়ে উপাচার্য মহোদয়ের সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে। কাল-পরশুর মধ্যে যদি কোনো আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন প্রকাশিত না হয়, তবে সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাবি আদায়ে আমরা পরবর্তী কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হব।
হল ছাড়ায় কালক্ষেপণের বিষয়টি মূলত অছাত্র রাজনৈতিক ব্যক্তিদের হলে থাকার পথ সুগম করছে কিনা এটা নিয়ে জানতে চাইলে প্রো-ভিসি (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. নজরুল ইসলাম বলেন, অছাত্রদের হল ছাড়ার বিষয়ে জাকসুর আল্টিমেটামের পর আমরা প্রশাসনিকভাবে বৈঠক করেছি। পুরো বিষয়টি বর্তমানে উপাচার্য মহোদয়ের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, অছাত্রদের হলে থাকা নিয়ে জাকসুর আল্টিমেটামের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে পর্যালোচনা করা হচ্ছে এবং খুব শীঘ্রই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রজ্ঞাপন আকারে জারি করা হবে। শিক্ষার্থীদের কল্যাণে মাঝামাঝি একটা ডিসিশনে পৌঁছেছি আমরা।
সূত্র: ঢাকা পোস্ট








