ঢাকা | সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬,৬ আশ্বিন ১৪৩৩

এমপি নজরুলের ৪ দিন ও প্রথম স্ত্রীর এক দিনের রিমান্ড

রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানার আত্মহত্যায় প্ররোচনা মামলায় গ্রেপ্তার সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) গাজী নজরুল ইসলামকে চার দিন ও তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এক দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। আজ সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলাম এই রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

আজ দুপুরের পর গাজী নজরুল ও তাঁর স্ত্রীকে আদালতে হাজির করে শেরেবাংলা নগর থানা-পুলিশ। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শেরেবাংলা নগর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শামসুজ্জোহা সরকার প্রত্যেকের সাত দিন করে রিমান্ডের আবেদন করেন।

রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী আসামিদের রিমান্ডে নেওয়ার যৌক্তিকতা তুলে ধরেন। আসামিপক্ষের আইনজীবী মাহবুবুর রহমানসহ বেশ কয়েকজন রিমান্ড নামঞ্জুর ও জামিন চেয়ে শুনানি করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত রিমান্ডের আদেশ দেন।

এর আগে গতকাল রোববার রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানাধীন ন্যাম ভবনের পাঁচ নম্বর ভবনের তৃতীয় তলার ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাট থেকে গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় মৃত মরিয়ম খাতুনের বাবা মো. মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় একটি আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা করেন। মামলায় এমপি গাজী নজরুল ইসলাম, তাঁর স্ত্রী মাকসুদা বেগম ও মাসুম বিল্লাহর শ‍্যালক ওবায়দুর রহমানকে আসামি করা হয়েছে।

মামলায় বাদী মাসুম বিল্লাহ উল্লেখ করেন, গত জুনে গাজী নজরুলের সঙ্গে মরিয়মের ইসলামি শরিয়াহ অনুযায়ী বিয়ে হয়। তিনি এমপি হওয়ায় মরিয়ম ও তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকসুদাসহ শেরেবাংলা নগর থানাধীন মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ এলাকার সংসদ ভবনের বিপরীত পাশে ন্যাম ভবনের পাঁচ নম্বর বিল্ডিংয়ের তৃতীয় তলায় বসবাস করতেন।

আসামি ওবায়দুর রহমানের প্রত্যক্ষ প্ররোচনায় গাজী নজরুলের সঙ্গে মরিয়মের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই নজরুল ও তাঁর প্রথম স্ত্রী বিভিন্ন বিষয় নিয়ে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন বলে মরিয়ম পরিবারকে জানান। এর ধারাবাহিকতায় ২০ সেপ্টেম্বর বিকেল আনুমানিক সাড়ে ৫টায় গাজী নজরুল ভুক্তভোগীর বাবাকে ফোন করে দ্রুত তাঁদের বাসায় যেতে বলেন। বাসায় এসে দেখতে পান, অনেক লোকজন সেখানে উপস্থিত। তখন তিনি জানতে পারেন, বাসার ভেতরের রুমে মরিয়ম ওড়না দিয়ে ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলে আছেন। শেরেবাংলা নগর পুলিশের সহায়তায় দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে তাঁর মেয়ের দেহ ওড়না দিয়ে ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলে আছে দেখতে পান। এ সময় বিছানার ওপর তাঁর লেখা একটি সুইসাইড নোট পান।

আসামিদের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে এবং আসামিদের প্ররোচনায় তাঁর মেয়ে মরিয়ম আত্মহত্যা করেছেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।

উল্লেখ্য, গত জুলাইয়ে মরিয়ম খাতুনের সঙ্গে গাজী নজরুল ইসলামের ‘ব্যক্তিগত মুহূর্তের’ কয়েকটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তাঁকে ঘিরে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।

এই ঘটনার পর ২২ জুলাই সাতক্ষীরা-৪ আসনের এমপি গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করে জামায়াতে ইসলামী। সাংগঠনিক তদন্তে তাঁর নৈতিক স্খলন প্রমাণিত হওয়ায় তাঁকে বহিষ্কার ও একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনকে বিষয়টি অবগত করা হয়।
এদিকে, ভিডিও ভাইরালের পর অনৈতিক সম্পর্কের প্রতিবাদ ও ভিডিও ফাঁসের সন্দেহে মারধর এবং শ্বাসরোধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ এনে গত ২১ জুলাই গাড়িচালক ও মৃত মরিয়ম খাতুনের মামা ওবায়দুর রহমান বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা করেন।

এ মামলায় হাইকোর্ট থেকে গত ১০ আগস্ট আট সপ্তাহের জামিন পান গাজী নজরুল ইসলাম। সেই মামলার বাদী ওবায়দুরকে এবার মরিয়ম খাতুনের আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় আসামি করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গতকাল ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির হয়ে গাজী নজরুল ইসলাম জামিননামা দাখিল করেন।