ঢাকা | শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬,২১ কার্তিক ১৪৩৩

এনসিপি ছাড়লেন সামান্তা শারমিন

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে চলে গেলেন দলটির প্রতিষ্ঠাকালীন নেতাদের অন্যতম সামান্তা শারমিন। জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া তরুণেরা প্রায় দুই বছর আগে যখন দলটি গঠন করেন, সে সময় দলের জ্যেষ্ঠ আহ্বায়ক হয়েছিলেন তিনি। তার আগে যে প্ল্যাটফর্ম থেকে এনসিপি গঠন করা হয়, সেই জাতীয় নাগরিক কমিটির মুখপাত্র ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী সামান্তা শারমিন।

সামান্তা শারমিন এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়কের পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের কাছে পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন। এনসিপির পুনর্গঠিত কমিটিতে ‘পদাবনতির’ দুই সপ্তাহ পর দলটি ছেড়ে দিলেন তিনি।

তবে দল ছাড়ার কারণ হিসেবে চারুকলার শিক্ষার্থী সামান্তা বলেছেন, নিজস্ব রাজনৈতিক ‘লাইন’ স্পষ্ট না থাকায় জাতীয় নাগরিক পার্টিকে (এনসিপি) জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে হারিয়ে যেতে হচ্ছে। গণ–অভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দেওয়া তরুণদের এই দলটিকে এখন জামায়াতের জন্য নানা ইস্যুতে প্রতিক্রিয়ামূলক ও সহায়ক ভূমিকা নিতে হচ্ছে। তা ছাড়া এনসিপির ‘বড়’ রাজনৈতিক দলের ‘লেজুড়’ হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়াটা দলটির নিজস্ব নতুন রাজনীতির সম্ভাবনাকে নিঃশেষ করেছে বলেও মনে করছেন সামান্তা শারমিন। এ ছাড়া এনসিপির ভূমিকা নারীবিরোধী রক্ষণশীল রাজনৈতিক প্রবণতার সঙ্গে মিলে যাচ্ছে বলে মনে করছেন তিনি। কাউন্সিল এড়িয়ে এনসিপির কমিটি পুনর্গঠন নিয়েও নিজের অসন্তোষের কথা উল্লেখ করেছেন সামান্তা শারমিন।

এক ফেসবুক পোস্টে সামান্তা শারমিন বলেছেন, এসব বিষয়ে বারবার পুনর্বিবেচনা করার আহ্বান জানানোর পরেও এনসিপি তার গতিপথ পরিবর্তন করতে আগ্রহী হয়নি। সে জন্য তিনি দল থেকে পদত্যাগ করেছেন।

জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের পর ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে গঠিত জাতীয় নাগরিক কমিটির মুখপাত্র হয়েছিলেন সামান্তা শারমিন। এরপর গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে এনসিপির আত্মপ্রকাশের সময় দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক হন তিনি। তবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে গত ডিসেম্বরে এনসিপি জামায়াতের সঙ্গে জোটবদ্ধ হওয়ার পর থেকে দলীয় কার্যক্রমে অনেকটা নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছিলেন সামান্তা শারমিন। সর্বশেষ গত ২৩ অক্টোবর এনসিপির পুনর্গঠিত কমিটিতে তাঁকে যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়।

পদত্যাগের বিষয়ে জানতে চাইলে সামান্তা শারমিন বলেন, ‘বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে আমি এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামকে হোয়াটসঅ্যাপে পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছি। এ ছাড়া দলের গ্রুপেও সবাইকে পদত্যাগের বিষয়টি জানিয়েছি।’