ঢাকা | মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬,১৫ বৈশাখ ১৪৩৩

গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরামর্শক ঢাবির সাবেক উপাচার্য

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সাবেক উপাচার্য (ভিসি) অধ্যাপক নিয়াজ আহমদ খান ঢাবির আনুষ্ঠানিক অনুমতিক্রমে গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরামর্শক (সিনিয়র স্ট্র্যাটেজিক অ্যাডভাইজার) হিসেবে যোগদান করেছেন।

সরকারি অনুমোদনের পর গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয় বর্তমানে দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়টি একদিকে একাডেমিক কার্যক্রম চালুর প্রস্তুতি এগিয়ে নিচ্ছে, অন্যদিকে স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের কাজও চলছে। প্রায় ৩৩ একর (প্রায় ১০০ বিঘা) জমির ওপর এই ক্যাম্পাসটি নির্মিত হতে যাচ্ছে।

জমির প্রথম অংশটি ২০১৪ খ্রিষ্টাব্দে গাজীপুরের কালীগঞ্জের পূর্বাচলে অধিগ্রহণ করা হয়। তবে বারবার প্রক্রিয়া সম্পন্নের পরও তৎকালীন সরকার অনুমোদন না দেয়ায় প্রকল্পে বিলম্ব হয়েছে। ফলে এর কার্যক্রমও শুরু করা সম্ভব হয়নি।

গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয় অবশেষে ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দের মার্চ মাসে বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে আনুষ্ঠানিক অনুমোদন পায়। পরবর্তীতে একই বছরের এপ্রিললে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) থেকেও অনুমোদন পায়।

বাংলাদেশে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রচলিত আইন, বিধি ও নীতিমালার আলোকে বিস্তারিত পর্যালোচনা, যাচাই-বাছাই, পরিদর্শন এবং মূল্যায়নের পর এসব অনুমোদন দেয়া হয়। এখন, সব ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়টি একযোগে একাডেমিক কার্যক্রম শুরু এবং স্থায়ী ক্যাম্পাসের স্থাপত্য পরিকল্পনার কাজ দ্রুত এগিয়ে নিচ্ছে।

প্রাথমিকভাবে গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয়র কার্যক্রম শুরু হবে ঢাকার দিয়াবাড়িতে অবস্থিত গ্রামীণ ক্যালেডোনিয়ান কলেজ অব নার্সিং (জিসিসিএন) ক্যাম্পাসে। এই নার্সিং কলেজটি পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল অনুষদের অধীনে পরিচালিত হবে। একই স্থানে প্রায় ৭০০ শয্যার একটি বড় আন্তর্জাতিক হাসপাতাল, একটি মেডিকেল কলেজ এবং একটি স্বাস্থ্য গবেষণা ইনস্টিটিউটও নির্মাণাধীন রয়েছে। এই সমন্বিত উদ্যোগ চিকিৎসা শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও গবেষণার জন্য একটি শক্ত ভিত্তি তৈরি করবে।

এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বিদ্যমান ভবনের কয়েকটি ফ্লোর অস্থায়ী ক্যাম্পাসে রূপান্তর করে ব্যবহার উপযোগী করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠা-সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন করে কৌশলগত ও পরিচালনাগত অগ্রাধিকার অনুযায়ী আংশিক অবকাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে।

গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয় একটি বোর্ড অব ট্রাস্টিজ দ্বারা পরিচালিত হবে, যা বিশিষ্ট ব্যক্তি নিয়ে গঠিত। সদস্যরা স্বেচ্ছাসেবী ভিত্তিতে—কোনো পারিশ্রমিক বা মিটিং ভাতা ছাড়াই দায়িত্ব পালন করবেন। এই ব্যতিক্রমধর্মী কাঠামো সামাজিক দায়বদ্ধতা ও নৈতিক নেতৃত্বের প্রতি প্রতিষ্ঠানটির দৃঢ় অঙ্গীকারের প্রতিফলন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি গড়ে তুলতে বোর্ড অব ট্রাস্টিজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। পাঁচটি একাডেমিক স্কুল প্রতিষ্ঠা এবং জাতীয় ও বৈশ্বিক চাহিদা পূরণের পাশাপাশি ‘তিন শূন্য’ দর্শনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ১৪টি অগ্রাধিকারমূলক প্রোগ্রাম নির্ধারণ করা হয়েছে।

একইসঙ্গে উপাচার্য, প্রো-উপাচার্য, কোষাধ্যক্ষ, বিভিন্ন স্কুলের ডিন এবং বিভিন্ন বিষয়ের শিক্ষকসহ গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্বস্থানীয় পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিভিন্ন বিভাগে ইতোমধ্যে বেশ কিছু কর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং আরও নিয়োগ প্রক্রিয়া চলমান।