ঢাকা | মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬,১৫ বৈশাখ ১৪৩৩

একীভূত হতে যাচ্ছে এনসিপি ও এবি পার্টি?

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও আমার বাংলাদেশ পার্টি একীভূত হওয়ার বিষয়ে আলোচনা চলছে। এ নিয়ে দল দুটির মধ্যে প্রাথমিক আলাপ-আলোচনা হয়েছে। তবে কবে নাগাদ একীভূত হবে, সাংগঠনিক কাঠামো কী হবে, সে বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

উভয় দলের বিশ্বস্ত কয়েকটি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

এবি পার্টি ও এনসিপি দুই দলই জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ভূমিকা রেখেছে। আদর্শগত বড় কোনো মতপার্থক্য না থাকায় দল দুটি একীভূত হতে সমস্যা নেই বলে মনে করছেন উভয় দলের নেতারা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনসিপির একজন কেন্দ্রীয় নেতা জানান, দুই দলের একীভূত হওয়ার বিষয়টি নিয়ে এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটিতে আলোচনা হয়নি। তবে, দলের রাজনৈতিক পরিষদে আলোচনা হলেও হতে পারে।

অন্যদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এবি পার্টির একজন শীর্ষস্থানীয় নেতা বলেন, এটা নিয়ে দুই দলের শুভাকাঙ্ক্ষী ও শীর্ষ স্থানীয় নেতাদের মধ্যে আলোচনা চলছে। তবে, আনুষ্ঠানিক কোনো আলোচনা হয়নি।

এনসিপির সূত্র মতে, এবি পার্টি ও এনসিপির মধ্যে বৈষম্যবিরোধী ও ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনসহ বিভিন্ন ইস্যুতে আদর্শগত মিল রয়েছে। ফলে একীভূত হওয়ার একটা আলোচনা আছে। চলতি মাসের শুরুতে দুই দলের শীর্ষ নেতারা একটি বৈঠকে বসেন। সেখানে সম্ভাব্য একীভূতকরণ প্রক্রিয়া ও সাংগঠনিক কাঠামো নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা হয়। শিগগিরই আবার আলোচনায় বসার সম্ভাবনা রয়েছে।

এ প্রসঙ্গে এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া শক্তিগুলোকে ঐক্যবদ্ধ করে একই রাজনৈতিক লক্ষ‍্যে একটি প্ল‍্যাটফর্মে আনার নানারকম অনুরোধ ও আকাঙ্ক্ষা আছে। তারই অংশ হিসেবে নির্বাচনের আগে এনসিপি, এবি পার্টি ও রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সমন্বয়ে আমরা একটি রাজনৈতিক জোট গঠন করেছিলাম। এনসিপি ও এবি পার্টি একীভূত (মার্জ) হওয়ার বিষয়ে আমাদের দলের নীতিনির্ধারণী ফোরামে এখনও আনুষ্ঠানিক আলোচনা হয়নি। যা শোনা যাচ্ছে সেগুলো এখনও ধারণাপ্রসূত, এর বেশি কিছু নয়। যদি এ ধরনের কোনো প্রক্রিয়া শুরু হয়, তাহলে তা অবশ্যই গণতান্ত্রিকভাবে সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে আলাপ আলোচনা করেই হবে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক জাতীয় সংসদে বিরোদী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, এটা আমাদের দলের অভ্যন্তরীণ বিষয়। এখনই কিছু বলা যাবে না। একটা পরিমিত জায়গায় এলে তখন বলা যাবে।
এনসিপির একটি সূত্র জানায়, আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো এবি পার্টির দায়িত্বশীল নেতাদের ভবিষ্যৎ অবস্থান। কে কোন পদ পাবেন, তাদের সাংগঠনিক মূল্যায়ন কীভাবে হবে এবং এনসিপির বর্তমান কাঠামোর সঙ্গে নতুন নেতৃত্বকে কীভাবে সমন্বয় করা হবে। এসব বিষয় নিয়ে এখন প্রাথমিক আলোচনা চলছে। তবে আলোচনাকে এগিয়ে নিতে উভয় দলই আরও সময় নিচ্ছে।

এনসিপির রাজনৈতিক পরিষদের এক নেতা জানান, এবি পার্টি আনুষ্ঠানিকভাবে বিলুপ্ত হয়ে এনসিপিতে যোগ দেবে, নাকি দুই দল একীভূত হয়ে নতুন নামে আত্মপ্রকাশ করবে- তা এখনও স্পষ্ট নয়। এমনকি দলের নাম পরিবর্তনের বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে। মাঠপর্যায়ে সংগঠন শক্তিশালী করার লক্ষ্যেই এই সমঝোতার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে পদ-পদবি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া নির্ধারণের ওপরই একীভূত হওয়ার বিষয়টি নির্ভর করছে।

এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূইয়াঁ এ বিষয়ে বলেন, এবি পার্টি ও এনসিপি একীভূত হওয়ার আলোচনা চলছে। কিন্তু এখনও চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত না হওয়ায় বিস্তারিত কিছু জানাতে পারছি না।

‘সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার’– এই তিন মূলনীতির ভিত্তিতে অধিকারভিত্তিক কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ২০২০ সালের ২ মে এবি পার্টির যাত্রা শুরু হয়। দলটি ২০২৪ সালে নিবন্ধন পায়। বর্তমানে দলটি ‘১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য’র শরিক দল।

অন্যদিকে, গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া সামনের সারির নেতাদের নিয়ে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে গঠিত হয় জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপি। দলটি ইতোমধ্যে জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়লাভ করে তাদের ৬ জন সংসদ সদস্য জাতীয় সংসদে গেছেন। সম্প্রতি দল সম্প্রসারণে নানা উদ্যোগ নিয়েছে এনসিপি।

সংসদ নির্বাচনের পর থেকে বিভিন্ন দল ও সংগঠনের নেতাকর্মীদের এনসিপিতে যোগ দিতে দেখা যাচ্ছে। গত ২৪ এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে দলে যোগ দেন যুবদলের সাবেক কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ইসহাক সরকার, কনটেন্ট ক্রিয়েটর নুরুজ্জামান কাফি, সামাজিক আন্দোলনকর্মী মহিউদ্দিন রনি এবং শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের নাতনি ফেরসামিন হক ইকবাল (ফ্লোরা)।

এর আগে, গত ১৯ এপ্রিল এবি পার্টি, ইউনাইটেড পিপলস বাংলাদেশ (আপ বাংলাদেশ) ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ৪৪ জন নেতাকর্মী একযোগে এনসিপিতে যোগ দেন। এদের মধ্যে আছেন- এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সানী আবদুল হক, আপ বাংলাদেশের আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদ, প্রধান সমন্বয়কারী রাফে সালমান রিফাত এবং মুখপাত্র শাহরীন ইরা।

সূত্র: ঢাকা পোস্ট