ঢাকা | বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬,২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩

শিক্ষামন্ত্রীর নির্দেশে বদলি হয়েও ভোগান্তিতে সেই খাইরুল ইসলাম

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার গোপালনগর মহিলা আলিম মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক খাইরুল ইসলামকে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে অন্য একটি মাদ্রাসায় পদায়ন করা হয়। তবে পদায়নের পরও তাকে প্রতিষ্ঠান থেকে ছাড়পত্র ও প্রয়োজনীয় নথি দেওয়া হচ্ছে না। এমনই অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষক। এ কারণে নতুন কর্মস্থলে যোগদান করতে পারছেন না ওই শিক্ষক।

এ বিষয়ে শিক্ষক খাইরুল ইসলাম বলেন, ‘আমি মন্ত্রণালয় থেকে চিঠি পাওয়ার পরেই প্রিন্সিপাল স্যারকে বলছি আমার কাগজপত্র রেডি রাখার জন্য। কিন্তু রেডি রাখেননি। এরপর আমি যখন অফিসে আসি এবং আবেদন জমা দেই। উনি আমাকে ইউএনও এবং শিক্ষা অফিসারের কাছে অনুমতি নিতে হবে বলে জানায়। আমিসহ ইউএনও এবং মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের কাছে গেলে, উনারা আমার কাগজপত্র দিয়ে দিতে বলেন। এখানে ওনাদের পারমিশন নেয়ার কোন প্রয়োজন নেই বলে জানায়। এভাবে গত ৯ ও ১০ আগস্ট আমাকে ঘুরায়। ১১ তারিখ দেবে বললেও আজকে ১২ তারিখ আমাকে ছাড়পত্রসহ প্রয়োজনিও কাগজপত্র দিচ্ছেনা।’

জানা গেছে, খাইরুল ইসলাম ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দের ১৬ জুন বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সুপারিশপ্রাপ্ত হন। এরপর একই বছরের ১ সেপ্টেম্বর তিনি গোপালনগর মহিলা আলিম মাদ্রাসায় সহকারী শিক্ষক (বাংলা) হিসেবে যোগ দেন। সম্প্রতি মন্ত্রণালয়ের ৩০ জুলাইয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী তাকে চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার নিশ্চিতপুর ডি.এস. ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসায় নতুন সংযুক্তি হিসেবে পদায়ন করা হয়। কিন্তু এরপরই তার বদলিতে ছাড়পত্র দিতে গড়িমসি করছে প্রতিষ্ঠান প্রধান।

এদিকে গোপালনগর মহিলা আলিম মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. শাহ আলমকে দেওয়া আবেদনপত্রে খাইরুল ইসলাম উল্লেখ করেন, ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দের ১৬ জুন এনটিআরসিএর গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তিনি ওই প্রতিষ্ঠানে সুপারিশপ্রাপ্ত হন। পরে ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দের ১ সেপ্টেম্বর তিনি মাদ্রাসায় যোগদান করেন।

আবেদনপত্রে তিনি আরও উল্লেখ করেন, ওই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থাকা অবস্থায় ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দের ৩০ জুলাই কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ, মাদ্রাসা শাখা-১-এর স্মারক নম্বর ৫৭.০০.০০০.০০০.০৫৫.১৯.০০০১.২৬-১৮-এর মাধ্যমে তাকে চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার নিশ্চিতপুর ডি.এস. ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসায় সংযুক্তি হিসেবে পদায়ন করা হয়।

এ বিষয়ে গোপালনগর মহিলা আলিম মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. শাহ আলমের বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হয়। সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পর তিনি ফোনটি রেখে দেন। পরে তার সঙ্গে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।