ঢাকা | শনিবার, ৮ আগস্ট ২০২৬,২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩

স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় সাকিবের দেশে ফেরার সুযোগ নেই: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় সাকিব আল হাসানের দেশে ফেরার আর কোনো সুযোগ নেই বলে মনে করেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। তার ভাষায়, ‘আমরা অনেক নমনীয়, অনেক সহনশীলভাবেই জিনিসটাকে দেখছিলাম। এরপরে আর মনে হয় না যে ওইভাবে চিন্তা করার সুযোগ আছে।’

‎আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সাকিবকে দেশে ফিরতে হবে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘যে স্বৈরাচারের মঞ্চে উঠেছে, তার তো আর আসার সুযোগ আছে বলে মনে হয় না। একজন খেলোয়াড় হিসেবে যেটা আমরা চিন্তা করছিলাম, আমরা নমনীয় ছিলাম। এখন আর কোনো সুযোগ নেই। যে যদি আসে, তাহলে আইনগতভাবে আসবে।

গণ-অভ্যুত্থানে দেশ ছেড়ে পালানোর দুই বছর পর সম্প্রতি শেখ হাসিনা দলের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে ভার্চ্যুয়াল সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেন। সেখানে আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য ও অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানও ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হন। অনেকের মতে, এই পদক্ষেপ তার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরার চেয়ে রাজনৈতিক পরিচয় ও ভবিষ্যৎকে বেশি গুরুত্ব দেয়ার ইঙ্গিত দেয়।

ওই সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বাংলাদেশে সাকিবের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। বাড়ির জানালার কাচ ভাঙচুরের পাশাপাশি আগুন দেয়ারও চেষ্টা করা হয়। এ ঘটনাকে দেশে ফিরলে সাকিব কী ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে পারেন, তারই একটি ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এর আগে ক্রিকবাজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারেও আমিনুল হক একই কথা বলেন। তিনি বলেছেন, ‘তার (সাকিবের) দেশে ফিরে খেলার কোনো সুযোগ দেখি না। একজন ক্রিকেটারের পরিচয় থেকে সরে এসে যেভাবে তিনি রাজনৈতিক পরিচয়কে সামনে এনেছেন, তাতে আমার মনে হয় না তার দেশে ফেরার কোনো সুযোগ আছে। ফিরলে তাকে আইনের মুখোমুখি হতেই হবে।

আমিনুল আরও বলেন, ‘তিনি একজন খেলোয়াড় হওয়ায় আমি এবং অন্যরা এতদিন অনেক সহনশীল ছিলাম। কিন্তু এখন আর তার প্রত্যাবর্তনের জন্য কোনো উদ্যোগ নেয়ার সুযোগ দেখি না।’

একই ধরনের মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) বর্তমান পরিচালক সিরাজউদ্দিন মোহাম্মদ আলমগীর। তিনি বলেন, ‘সাম্প্রতিক ঘটনার পর আমার মনে হয়, এখন তার ক্রিকেটার পরিচয়ের চেয়ে রাজনৈতিক পরিচয়ই বড় হয়ে গেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘দলের নেতাদের সঙ্গে একই মঞ্চে বসার জন্য নির্বাচিত হওয়াই তার রাজনৈতিক অবস্থান ও আকাঙ্ক্ষার স্পষ্ট বার্তা দেয়। তবে প্রতিটি সিদ্ধান্তেরই মূল্য দিতে হয়, আর তিনি যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তার মূল্য সম্পর্কেও নিশ্চয়ই তিনি অবগত।’

আলমগীরের ভাষায়, ‘তিনি রাজনৈতিক পরিচয়ের জন্য নিজের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিসর্জন দিয়েছেন।’

জাতীয় দলে ফেরার সম্ভাবনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এখন তাকে ক্রিকেটারের চেয়ে রাজনৈতিক ব্যক্তি হিসেবেই দেখতে হবে। সেক্ষেত্রে আগে তার বিরুদ্ধে থাকা সব অভিযোগ থেকে আইনি মুক্তি পেতে হবে, এরপর জাতীয় দলে ফিরতে হলে ফিটনেস পরীক্ষাও পাস করতে হবে। কিন্তু তার বয়স বিবেচনায় আবার জাতীয় দলে খেলার সম্ভাবনা অত্যন্ত ক্ষীণ।’