ঢাকা | শনিবার, ৮ আগস্ট ২০২৬,২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩

থাইল্যান্ডে স্কুলে গুলিবর্ষণ, শিক্ষকসহ নিহত ৭, সন্দেহভাজন কিশোরও মৃত

থাইল্যান্ডে এক কিশোর তার দাদা-দাদি ও স্কুলের শিক্ষকদের গুলি করে হত্যা করেছে। এ ঘটনায় কমপক্ষে ৭ জন নিহত হয়েছেন। সন্দেহভাজন বন্দুকধারী ১৪ বছর বয়সী ওই শিক্ষার্থীও মারা গেছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রাজধানী ব্যাংককের উপকণ্ঠে নিজের বাড়িতে প্রথমে দাদা-দাদিকে গুলি করে হত্যা করে ওই কিশোর। এরপর সে স্কুলে যায়। সেখানে শিক্ষকদের লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি।

এক প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, তিনি ওই কিশোরকে একজন শিক্ষককে গুলি করতে দেখেছেন। স্থানীয় সময় শুক্রবার সকাল ১০টার কিছু পর ব্যাংককের উপকণ্ঠে ডেবসিরিন ননথাবুরি স্কুলে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। এতে নিহত পাঁচজনই শিক্ষক বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। গুলির শব্দ ছড়িয়ে পড়ার পর শিক্ষার্থী ও স্কুলের কর্মীদের নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য দৌড়ে পালাতে দেখা যায়। ঘটনাস্থলে জরুরি উদ্ধারকারী দল পাঠানো হয়েছে। কর্তৃপক্ষ সাধারণ মানুষকে ননথাবুরির ডেবসিরিন স্কুলের আশপাশের এলাকা এড়িয়ে চলার আহ্বান জানিয়েছে। থাইল্যান্ডজুড়ে ডেবসিরিন স্কুলের একাধিক শাখা রয়েছে এবং প্রতিষ্ঠানটি দেশটির অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত।

পুলিশ জানিয়েছে, ১৪ বছর বয়সী ওই কিশোর বাড়িতে তার দাদা-দাদিকে হত্যার পর স্কুলে যায়। গুলিবর্ষণে ব্যবহৃত ৯ মিমি পিস্তলটি তার দাদার মালিকানাধীন ছিল। তার কাছে আরও অন্তত ৩৪টি গুলি পাওয়া গেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। তবে কী কারণে সে এই হামলা চালিয়েছে, তা জানা যায়নি। গুলিতে আহত অন্তত ১৫ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার মধ্যে দু’জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ব্যাংকক থেকে বিবিসির প্রতিবেদক জোনাথন হেড জানিয়েছেন, হামলাকারী মূলত শিক্ষকদের লক্ষ্যবস্তু করেছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে গুলিবর্ষণ চলে। পরে স্কুলটির ১৪ বছর বয়সী ওই শিক্ষার্থী নিজের ওপর গুলি চালিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নিহত এক শিক্ষিকার প্রেমিক সাংবাদিকদের কাছে কান্না সামলাতে সামলাতে বলেন, এটা হওয়া উচিত ছিল না। ডেবসিরিন ননথাবুরি স্কুলটি ব্যাংককের উত্তরে একটি বড় আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকায় অবস্থিত। এই এলাকার অনেক বাসিন্দা প্রতিদিন রাজধানীতে যাতায়াত করেন। স্থানীয়ভাবে স্কুলটি অত্যন্ত পরিচিত হওয়ায় এই ঘটনা পুরো সম্প্রদায়ের ওপর গভীর প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে।

চলতি বছরে থাইল্যান্ডে এটি দ্বিতীয় স্কুলে গুলিবর্ষণের ঘটনা। এর আগে ফেব্রুয়ারিতে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে একটি স্কুল অবরোধের ঘটনায় ১৮ বছর বয়সী এক বন্দুকধারীর গুলিতে স্কুলের এক অধ্যক্ষ ও এক ছাত্রী নিহত হন। এরও আগে ২০২২ সালের অক্টোবরে পূর্বাঞ্চলীয় নং বুয়া লামফু প্রদেশে ৩৪ বছর বয়সী এক ব্যক্তি ৩৭ জনকে হত্যা করেন। নিহতদের অধিকাংশই ছিল প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশু।

এই ঘটনার পর থাইল্যান্ডে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা আরও কঠোর করার দাবি জোরালো হয়েছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে থাইল্যান্ডে ব্যক্তিগত অস্ত্রের মালিকানার হার অন্যতম বেশি। দেশটিতে অস্ত্র রাখার ক্ষেত্রে বিভিন্ন বিধিনিষেধ থাকলেও বৈধ ও অবৈধ উভয় পথেই তুলনামূলক সহজে অস্ত্র সংগ্রহ করা সম্ভব বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন। এর আগে একাধিক বন্দুক হামলার পরও অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে বন্দুক-সংক্রান্ত অপরাধ কমাতে কর্তৃপক্ষ এ পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য কী পদক্ষেপ নিয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।