ঢাকা | মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬,১৫ বৈশাখ ১৪৩৩

ইবিতে জুলাই বিরোধী শিক্ষক-কর্মকর্তারা মাফ পেলেও পায়নি শিক্ষার্থীরা

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের অভ্যুত্থানবিরোধী ভূমিকায় থাকার অভিযোগে বরখাস্ত হওয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ১৯ শিক্ষক ও ১১ কর্মকর্তার শাস্তি মওকুফ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

গত ১৮ মার্চ অনুষ্ঠিত জরুরি সিন্ডিকেটে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। শাস্তি মওকুফের এক মাসের বেশি সময় পেরোলেও একই অপরাধে বহিষ্কার ও সনদ বাতিলের সিদ্ধান্ত হওয়া ৩৩ জন শিক্ষার্থী ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি কর্তৃপক্ষ। সিন্ডিকেটে তাদের বিষয়ে কোনো ধরনের স্পষ্ট সিদ্ধান্তে না আসায় দীর্ঘদিন ধরে এটি প্রক্রিয়ার মধ্যেই ঝুলে আছে। এতে তারা শিক্ষাজীবন ও ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। অতিদ্রুত বিষয়টির সুরাহা করে এ বিষয়ে প্রশাসনের স্পষ্ট সিদ্ধান্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ৩০ অক্টোবর অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৭১ তম সিন্ডিকেট সভায় জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থানবিরোধী ভূমিকায় থাকার অভিযোগে ইবির ১৯ জন আওয়ামীপন্থী শিক্ষক ও ১১ জন কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে কর্তৃপক্ষ। একই অপরাধে অভিযুক্ত ৩৩ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে পড়াশোনা শেষ হওয়াদের সনদ বাতিল এবং অধ্যয়নরতদের বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে এখনও পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের বহিষ্কার ও সনদ বাতিল কার্যকর করা হয়নি। পরবর্তীতে তাদেরকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয় কর্তৃপক্ষ। অধিকাংশ শিক্ষার্থীই শোকজের জবাব দিলেও তাদের বিষয়ে এখনও পর্যন্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

পরে গত ১৮ মার্চ অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেটে শিক্ষক-কর্মকর্তাদের সাময়িক বরখাস্তাদেশ তুলে দিলেও শিক্ষার্থীদের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। ফলে একই অপরাধে অভিযুক্ত হয়েও দুই পক্ষের ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষের ভিন্ন আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তুলছে সচেতন শিক্ষার্থীরা। এদিকে চূড়ান্তভাবে তাদের বহিষ্কার কার্যকর না হওয়ায় এখনও তারা নিয়মিত ক্লাস-পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন বলে জানা গেছে। তবে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের মধ্যে কেউ কেউ বিভিন্নভাবে ক্লাস-পরীক্ষায় অংশ নিলেও বেশিরভাগই একাডেমিক কার্যক্রমের বাইরে রয়েছেন।

ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন, তাদের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসায় তারা ক্লাস-পরীক্ষা থেকে বঞ্চিত হওয়ার পাশাপাশি সনদ বাতিলের কারণে চাকরির আবেদনও করতে পারছেন না। অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তা বাড়ায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে এ বিষয়ে দ্রুত চূড়ান্ত সিন্ধান্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।

এছাড়া ৩৩ জন ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের এ তালিকায় অনেক নিরপরাধ শিক্ষার্থীও শাস্তির আওতায় এসেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এমনই একজন অর্থনীতি বিভাগের ২০১৯-২০২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তানভীর হাসানের দাবি, ক্যাম্পাসে তিনি কোনো রাজনৈতিক কর্মকান্ডের সঙ্গে সক্রিয় না থাকলেও উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে বহিষ্কৃতদের তালিকায় তার নাম দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বহিষ্কৃতদের মধ্যে তিনিই শাখা ছাত্রলীগের একমাত্র পদহীন ব্যক্তি। এই ঝুলে থাকা সিদ্ধান্তে তিনি বর্তমানে মাস্টার্সের পড়াশোনা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে প্রায় ছয় মাস ধরে বহিষ্কৃত অবস্থায় আছেন।

ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের বহিষ্কারের বিষয়টি নিয়ে ক্যাম্পাসের ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে কথা হয় প্রতিবেদকের। তারা জানান, সাংগঠনিকভাবে তারা কাউকেই বহিষ্কারের জন্য প্রশাসনকে বলেনি। তাদের অপরাধ বিবেচনা করে দ্রুত বিষয়টি সুরাহা করতে কর্তৃপক্ষকে আহ্বান জানিয়েছেন ছাত্র নেতারা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মনজুরুল হক বলেন, তাদের বহিষ্কারের সিদ্ধান্তটি কার্যকর না হওয়ায় বর্তমানে সিদ্ধান্তটি ঝুলে আছে। পরবর্তী সিন্ডিকেটে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হতে পারে।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ বলেন, বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীদেরও ভবিষ্যৎ রয়েছে। তাই আমরা বিষয়টি ইতিবাচকভাবে দেখছি। তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো পুনরায় পর্যালোচনা করে অপরাধের মাত্রা বিবেচনায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।