ঢাকা | বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬,২২ আশ্বিন ১৪৩৩

রাজশাহী মেডিক্যালের ভিসিকে জোর করে পদত্যাগ করানোর অভিযোগ

রাজশাহী মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যলয়ের উপাচার্যকে জোর করে পদত্যাগ করানোর অভিযোগ উঠেছে।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দুপুরে মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী ক্যাম্পাসে গিয়ে দেখা যায় উপাচার্যের ব্যবহৃত নীল রঙের বিশ্ববিদ্যালয়ের লোগে সম্বলিত গাড়িটি ভবনের বাইরে রাখা রয়েছে। কিন্তু উপাচার্য ডা. জাওয়াদুল হক তার কক্ষে নেই। কক্ষটিতে একটি নতুন তালা দেয়া।

উপাচার্যের ব্যক্তিগত সহকারী নাজমুল হোসাইন জানান, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ‘ভিসি ঘেরাও’ কর্মসূচি লেখা রাজশাহীর আপামর ছাত্র-জনতার ব্যানারে একদল লোক ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে। তখন উপাচর্য দপ্তরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রারসহ অন্যান্যরা সেখানে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করছিলেন। এ সময় নাজমুল হোসাইন তাদের কক্ষে প্রবেশে বাধা দিতে চাইলে তাকে সহ জোর করে উপাচার্য কক্ষে প্রবেশ করেন তারা। এরপর জোর জবরদস্তি ও ধস্তাধস্তি করে উপাচার্য ডা. জাওয়াদুল হককে পূর্ব থেকে প্রিন্ট করা পদত্যাগ করার আবেদনে জোর করে স্বাক্ষর নেন। একইভাবে উপাচার্যের ব্যক্তিগত সহকারী নাজমুল হোসাইনকেও তার চাকরি থেকে অব্যহতি পত্রে স্বাক্ষর করানো হয়।

এ বিষয়ে ডেপুটি রেজিষ্টার জানান, আপামর ছাত্র-জনতার ব্যানারে আসা ব্যক্তিরা কক্ষে প্রবেশের সময় ভবনটির বিদ্যুৎ সরবরাহ লাইন কেটে দেন। এছাড়া, তারা চলে যাবার সময় উপাচার্য কক্ষের কম্পিটার সিপিইউ এবং সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংরক্ষণের যন্ত্রপাতি সঙ্গে নিয়ে যান। এ ঘটনার পর কক্ষটিতে তালা মেরে দেয়া হয়। ফলে উপাচার্য সহ ডেপুটি রেজিষ্ট্রার ক্যাম্পাস ছেড়ে বাইরে চলে যান।

এ ঘটনায় এখনও কোন মামলা বা আইনগত সহায়তা চাওয়া হয়নি। এখন পর্যন্ত মন্ত্রণেলয়ে জানানো হয়েছে, সেখান থেকে সিদ্ধান্ত এলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে।

তবে কারা ছিলো সেই দলে? এমন প্রশ্নে সঠিক কোন উত্তর মেলেনি। যুবদলের আহবায়ক শরিফুল ইসলাম জনি জানান, যুবদলের নেতৃত্বে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলে জানানো হলেও তা সঠিক নয়। কে বা কারা এটি করেছে তা জানা যায়নি।

প্রসঙ্গত, ডা. জাওয়াদুল হক ২০২৪ সালের ১০ সেপ্টেম্বর রাজশাহী মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যলয়ে উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পান।