শিক্ষা এবং প্রাথমিক গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছেন, বেসরকারি মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি ও গভর্নিং বডি কোনো দলীয় বা রাজনৈতিক বিবেচনায় গঠন করা বর্তমান সরকারের নীতি নয়। সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের প্রচলিত প্রবিধানমালা, পরিপত্র এবং নির্ধারিত যোগ্যতা ও প্রক্রিয়া অনুসরণ করে কমিটি গঠন করতে হয়।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) ঢাকা ৪ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ জয়নুল আবেদীন এর এক লিখিত প্রশ্নে টেবিলে উত্থাপিত জবাবে মন্ত্রী সংসদকে এ তথ্য জানান। এর আগে বিকেলে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে সংসদের অধিবেশন শুরু হয়।
শিক্ষামন্ত্রী আরো বলেন, স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামত প্রচলিত বিধানে যেভাবে নির্ধারিত রয়েছে, সেভাবেই বিবেচিত হবে; তবে কোনো একক ব্যক্তি বা পক্ষের মতামত কমিটি গঠনের একমাত্র নির্ধারক নয়।
এ বিষয়ে মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে: এ্যাডহক কমিটি গঠনে নতুন নির্দেশনা: ‘মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, ঢাকাসহ অন্যান্য বোর্ডের (নিম্ন মাধ্যমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা স্তরের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটি) প্রবিধানমালা, ২০২৪ (সংশোধনীসহ)’ অনুযায়ী এ্যাডহক কমিটি গঠনসংক্রান্ত একটি পরিপত্র গত ১৬ মার্চ জারি করা হয়েছে। এই পরিপত্রে নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসরণ করে এ্যাডহক কমিটি গঠনের জন্য সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ড ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিধিবহির্ভূত কমিটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা: কমিটি গঠনে অনিয়ম, অযোগ্য বা অগ্রহণযোগ্য ব্যক্তির অন্তর্ভুক্তি কিংবা বিধি লঙ্ঘনের কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের মাধ্যমে তা যাচাই করা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রচলিত প্রবিধান অনুযায়ী কমিটি বাতিল বা পুনর্গঠনসহ দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
নতুন প্রবিধানমালা প্রণয়ন: ম্যানেজিং কমিটি ও গভর্নিং বডি গঠনব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ, গ্রহণযোগ্য ও যুগোপযোগী করার লক্ষ্যে ‘মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, ঢাকা (নিম্ন মাধ্যমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা স্তরের বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটি) প্রবিধানমালা, ২০২৬’ প্রণয়নের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
প্রস্তাবিত প্রবিধানমালায় কমিটির সদস্যদের যোগ্যতা ও অযোগ্যতার মানদণ্ড সুস্পষ্ট করা, অভিভাবক ও শিক্ষক প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করা, স্বার্থের সংঘাত প্রতিরোধ, কমিটি গঠনের তথ্য প্রকাশ, অভিযোগ ও আপিল নিষ্পত্তির কার্যকর ব্যবস্থা এবং শিক্ষা বোর্ডের তদারকি জোরদারের বিষয় বিবেচনা করা হচ্ছে।
নতুন প্রবিধানমালা চূড়ান্ত ও কার্যকর হলে রাজনৈতিক বা অন্য কোনো অযাচিত প্রভাব পরিহার করে যোগ্য, সৎ ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের সমন্বয়ে স্বচ্ছ, অংশগ্রহণমূলক ও গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে ম্যানেজিং কমিটি ও গভর্নিং বডি গঠন আরও কার্যকরভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
মন্ত্রী ড. মিলন আজ ইউনেস্কোর ‘ডিজিটাল লার্নিং উইক’ সেমিনারে প্যারিসে বক্তব্য দিয়েছেন। সেখানে শিক্ষাখাতে এ আই-এর ব্যবহারসহ বাংলাদেশের শিক্ষাখাতে ডিজিটালসহ নানা পদক্ষেপের তথ্য জানান।




