ঢাকা | সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬,৭ বৈশাখ ১৪৩৩

কড়াকড়ি নিয়মে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের মানসিক চাপের শঙ্কা

কাল থেকে শুরু হচ্ছে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা। করোনা সংক্রমণের কারণে প্রাথমিক সমাপনী ও পিএসসি পরীক্ষায় অংশ না নিয়েই অটোপাশের পর এবারই প্রথম কোনো পাবলিক পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন ২৬ ব্যাচের ১৪ লাখ শিক্ষার্থী। শিক্ষা গবেষকরা বলছেন, পরীক্ষা আয়োজনে নিয়মের কড়াকড়ি মানসিক চাপ বাড়াবে পরীক্ষার্থীদের। অবশ্য, শিক্ষাবোর্ডের বক্তব্য, আতঙ্কের কিছু নেই। পরীক্ষার্থীদের সহযোগী হয় এমন পদক্ষেপই নেয়া হচ্ছে।

এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেবেন প্রায় সাড়ে আঠারো লাখ শিক্ষার্থী। মোট ৩৯০২টি কেন্দ্রে একযোগে অনুষ্ঠিত হবে পরীক্ষা। যার মধ্যে ৯টি সাধারণ শিক্ষাবোর্ডের অধীনে প্রায় ১৪ লাখ এবং মাদ্রাসা ও কারিগর শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অংশ নেবেন প্রায় সাড়ে ৪ লাখ পরীক্ষার্থী।

এই শিক্ষার্থীরা নবম শ্রেণিতে নতুন কারিকুলামে পড়েছে। কিন্তু গণঅভ্যুত্থানের পর নতুন কারিকুলাম বাতিল হওয়ায়, দশম শ্রেণিতে ফিরতে হয়েছে ২০১২ সালের পুরনো কারিকুলামে । এজন্য এবারও নিয়মিত পরীক্ষার্থীদের জন্য পরীক্ষা হবে সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে।

এরই মধ্যে, পরীক্ষার সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে শিক্ষাবোর্ড গুলো। বিশেষ নিরাপত্তায় জেলায় জেলায় পৌঁছে গেছে প্রশ্নপত্র। পরীক্ষার্থীরা নির্ভয়ে পরীক্ষায় অংশ নেবেন এমন প্রত্যাশা করছেন শিক্ষা বোর্ড সংশ্লিষ্টরা।
ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. খন্দোকার এহসানুল কবির বলেন, ‘যে কয়েকটি ধাপ থাকে আমার সেগুলো কমপ্লিট করেছি। আমাদের প্রশ্ন জায়গাতে পৌঁছে গেছে। প্রশ্নের বিষয়ে খেয়াল রাখা সার্বিক বিষয়ে আমরা অ্যালার্ট আছি। আশা করছি পরীক্ষা আগামীকাল সুন্দরভাবে শুরু করতে পারবো। আবার আগামী মাসের ২০ তারিখে সুন্দরভাবে শেষ করতে পারবো।’

এবারই প্রথম সিংহভাগ পরীক্ষাকেন্দ্রে থাকবে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা। পরীক্ষাকেন্দ্রের ২০০ গজের মধ্যে পরীক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ছাড়া অন্যদের প্রবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। নীরব এক্সপেলের নিয়ম ফিরিয়ে এনে সমালোচনার জেরে পরে বাতিল করা হয়।

পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বন থামাতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এসব পদক্ষেপকে ইতিবাচক দেখেন শিক্ষা গবেষকরা। তবে, নিয়মের জোরাজুরি শিক্ষার্থীদের সাবলীল পরীক্ষায় অংশ নিতে মানসিক পীড়নের কারণ হতে পারে বলে আশংকা করেন এ শিক্ষা গবেষক।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের শিক্ষক অধ্যাপক মজিবুর রহমান বলেন, ‘পরীক্ষায় আতঙ্ক সৃষ্টি করা বা ভীতি সৃষ্টি করলে ভালো কিছু আসবে না। বরং তারা যা পারতো সেটি আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবে, তারা সাইকোলজি কলাপস করবে, কেউ কেউ ডিপ্রেশনে চলে যাবে। বার বার কারিকুলাম পরিবর্তনের কারণে তারা স্বাভাবিকভাবে পরীক্ষা দিতে পারবে কি না তা নিয়ে একধরনের শঙ্কা রয়ে গেছে।’

পরীক্ষা নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা না করে দীর্ঘমেয়াদী শিক্ষানীতি প্রণয়নে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন এই গবেষক।