ঢাকা | মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬,১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

‘বাংলাদেশ হিন্দুকে অধিনায়ক বানাল, আমরা তাদের ক্রিকেটারকে সরালাম’:কেসি ত্যাগি

বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগকে ঘিরে ভারতের হিন্দুত্ববাদী বিভিন্ন গোষ্ঠী আইপিএলে বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের অংশগ্রহণ বন্ধের দাবি তোলে। এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশি পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)। এই সিদ্ধান্ত ঘিরে ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে ভিন্নমত ও বিতর্ক শুরু হয়েছে।

এই প্রসঙ্গে জনতা দল (ইউনাইটেড)-এর জ্যেষ্ঠ নেতা কেসি ত্যাগি বিসিসিআইকে সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান। তার মতে, খেলাধুলাকে রাজনৈতিক টানাপোড়েনের বাইরে রাখা উচিত। যদিও তিনি স্বীকার করেন, বর্তমান আঞ্চলিক পরিস্থিতির প্রভাব পুরোপুরি এড়ানো কঠিন।

ত্যাগি বলেন, আদর্শগতভাবে রাজনীতি ও খেলাধুলার মধ্যে কোনো সম্পর্ক থাকা উচিত নয়। তবে পাকিস্তান ও বাংলাদেশকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ, সীমান্ত সন্ত্রাস এবং বাংলাদেশে হিন্দু নির্যাতনের অভিযোগ ভারতীয় সমাজে ব্যাপক ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে, যার প্রতিফলন ক্রিকেটের মতো জনপ্রিয় খেলাতেও দেখা যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, জনমতের চাপ বিসিসিআইর সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে, কিন্তু ক্রীড়াবিষয়ক সিদ্ধান্তে রাজনীতির আধিপত্য থাকা সমীচীন নয়। খেলাকে আলাদা জায়গায় রাখাই শ্রেয় বলে মনে করেন তিনি।

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক একটি উদাহরণ তুলে ধরে কেসি ত্যাগি ভারতের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ তাদের টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়ক হিসেবে সংখ্যালঘু সনাতন ধর্মাবলম্বী ক্রিকেটার লিটন দাসকে দায়িত্ব দিয়েছে, যা একটি ইতিবাচক ও তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা দেয়।

তার ভাষায়, একদিকে বাংলাদেশ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের একজন ক্রিকেটারকে নেতৃত্বে এনেছে, অন্যদিকে আমরা ক্ষোভের বশে আইপিএল থেকে একজন বাংলাদেশি খেলোয়াড়কে সরিয়ে দিয়েছি। এই বাস্তবতা আমাদের নতুন করে ভাবতে বাধ্য করে। শেষ পর্যন্ত তিনি আবারও জোর দিয়ে বলেন, খেলাধুলা রাজনীতির ঊর্ধ্বেই থাকা উচিত।