বিয়ের আয়োজন প্রায় সম্পন্ন- কেনা হয়েছিল শাড়ি, গহনা আর লাল সিঁদুর। অপেক্ষা ছিল কেবল বিয়ের পিঁড়িতে বসার। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। বিয়ের আগেই ডেঙ্গু কেড়ে নিল নার্সিং ছাত্রী বৃষ্টি ঘরামীর (২২) প্রাণ। তবে শেষ বিদেয়ে বৃষ্টির শেষ ইচ্ছা পূরণে তার নিথর দেহে সিঁদুর পরিয়ে স্ত্রীকে স্ত্রীর মর্যাদা দিয়েছেন হবু বর সবুজ মণ্ডল।
রোববার (৪ সেপ্টেম্বর) সিঁদুর পরা বৃষ্টির নিথর দেহের একটি বেদনাবিধুর ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে তা নেটিজেনদের চোখ ভিজিয়ে দেয়।
বৃষ্টির ফেসবুক আইডি ঘেঁটে দেখা যায়, মৃত্যুর দিন সকালেও বি নেগেটিভ রক্তের প্রয়োজন জানিয়ে একটি পোস্ট দিয়েছিলেন। সঙ্গে দিয়েছিলেন একটি ফোন নম্বর। এগিয়ে আসার অনুরোধ করেছিলেন রক্তদাতাদের। কিন্তু আর বেঁচে ফেরা হলো না বৃষ্টির।
মৃত বৃষ্টি ঘরামী গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার সাদুল্লাপুর ইউনিয়নের নৈয়ারবাড়ি গ্রামের মেয়ে। তিনি গোপালগঞ্জ নার্সিং অ্যান্ড মিডওয়াইফারি কলেজের ২০২০-২১ ব্যাচের ছাত্রী ছিলেন এবং ঢাকার শ্যামলীতে অবস্থিত ট্রমা সেন্টারে নার্স হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
বৃষ্টির বড় বোন মেঘলা ঘরামী জানান, আগামী ১৬ অক্টোবর বৃষ্টির বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। একই দিনে তার জমজ বোন বন্যা ঘরামীরও বিয়ের আয়োজন চলছিল। বিয়ের সব কেনাকাটাও শেষ হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু হঠাৎ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে শুক্রবার মারা যান বৃষ্টি।
বোনকে হারানোর শোকে ভেঙে পড়ে মেঘলা বলেন, ওর ১০৮ ডিগ্রি জ্বর উঠে গিয়েছিল, পরে হিট স্ট্রোক হয়। সময়মতো সঠিক চিকিৎসা ও ব্যবস্থা পেলে হয়তো বোনটাকে বাঁচানো যেত।
মৃত্যুর পর স্ত্রীর মর্যাদা দেয়ার বিষয়ে তিনি আরও জানান, ঢাকা থেকে মরদেহ বাড়িতে নিয়ে আসার সময় হবু শাশুড়ি ও সবুজ বিয়ের সব জিনিসপত্র সঙ্গে নিয়ে আসেন। পরে সবুজ নিথর দেহে সিঁদুর পরিয়ে বৃষ্টিকে চিরদিনের জন্য নিজের স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করেন।








