ঢাকা | রবিবার, ৭ জুন ২০২৬,২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

রমেক আইসিইউতে কুকুরের অবাধ বিচরণ, রোগী নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (রমেক) আইসিইউ ওয়ার্ডে (নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র) কুকুরের উপদ্রব বেড়েছে। ওয়ার্ড এর ভেতরে এবং বাহিরে অবাধে ঘুরে বেড়াচ্ছে কুকুর।

হাসপাতাল চত্বরজুড়ে ছড়িয়ে আছে আবর্জনা। মেডিকেল বর্জ্য পড়ে থাকায় দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ ভর্তি রোগী ও তাদের স্বজনরা। এমন চিত্র রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের।

মঙ্গলবার (২ জুন) হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র তথা আইসিইউতে অবাধে ঘুরে বেড়াচ্ছে কুকুর। ওয়ার্ডের বাহিরে এবং ভিতরে কুকুরের অভাব চলাচল করায় ভীতু সশস্ত্র হয়ে পড়েছে রুগীও রোগের সাথে আসা স্বজনরা। এছাড়াও হাসপাতাল চত্বরজুড়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে ময়লা-আবর্জনা। শিশু ওয়ার্ড, হৃদরোগ বিভাগ, অর্থোসার্জারি বিভাগ ও নতুন ভবনের সামনেও একই চিত্র।

হাসপাতালের সামনের ওয়ার্ড ও আইসিইউর সামনে ডাস্টবিন থাকলেও সচেতনতার অভাবে যত্রতত্র ফেলা হচ্ছে খাবারের উচ্ছিষ্ট। পরিচ্ছন্নকর্মীরাও মেডিকেল বর্জ্যসহ নানা আবর্জনা ফেলে যাচ্ছেন খোলা জায়গায়।

নীলফামারীর জল ঢাকা থেকে আসা মমিনুর রহমান নামের এক রোগীর স্বজন শহিদুল হক বলেন, আইসিউতে আমার রোগী ভর্তি। আমরা কোনো জায়গা না পেয়ে আইসিউর সামনে শুয়ে থাকি। এখানে কুকুর দল বেঁধে আসে। কুকুরের অভাব চলাচল দেখে আমরা ভয় পেয়ে যাই। তাছাড়াও এখানে আবর্জনার যে দুর্গন্ধ, সুস্থ মানুষ অসুস্থ হয়ে যাচ্ছে। খুব কষ্টে আছি।’

২০১০ সালে হাসপাতালটি ৬০০ শয্যা থেকে এক হাজার শয্যায় উন্নীত হলেও দীর্ঘ ১৫ বছরেও জনবল বাড়েনি। ৬০০ শয্যার জনবল দিয়ে পাঁচ গুণ বেশি রোগীকে সেবা দিতে হচ্ছে। এই জনবল সংকটকেই অপরিচ্ছন্নতার মূল কারণ হিসেবে দেখছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এক হাজার শয্যার এই হাসপাতালে বর্তমানে প্রায় তিন হাজার রোগী ভর্তি থাকেন। সঙ্গে রয়েছেন তাদের স্বজনরাও।

বদরগঞ্জের ওসমানপুর থেকে আসা থেকে আসা রোগীর স্বজন আবেদুল হক বলেন, ‘অর্থোসার্জারি ওয়ার্ডের সামনে ময়লার দুর্গন্ধে থাকা যায় না। বাইরেও দাঁড়িয়ে থাকা মুশকিল। চারপাশে আবর্জনা। এখান থেকে রোগ-জীবাণু ছড়িয়ে পড়তে পারে। বিশেষ করে জানালার পাশে বেডে থাকা রোগীরা বাইরে থেকে আসা দুর্গন্ধে অস্বস্তিতে থাকে। এমন পরিবেশ সবার জন্যই ঝুঁকিপূর্ণ।’ফুলবাড়ি থেকে আসা আরেক রোগীর স্বজন আল আমিন বলেন, ‘রোগী নিয়ে আসছি বাবা। তেলাপোকায় ভরা, দুর্গন্ধে থাকা যায় না।’

রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাকিব হাসান বলেন, বর্জ্য অপসারণে রংপুর সিটি করপোরেশন ও প্রিয়জন বাংলাদেশ একসঙ্গে কাজ করছে। মেডিকেল বর্জ্য অপসারণে সিটি করপোরেশনের আলাদা একটি ইউনিট রয়েছে। এ ছাড়াও অন্যান্য বর্জ্য নিয়মিত নির্ধারিত জায়গা থেকে পরিচ্ছন্নকর্মীরা অপসারণ করে থাকেন। এর বাইরেও মেডিকেল কর্তৃপক্ষ যে কোনো বর্জ্য অপসারণে সহযোগিতা চাইলে আমরা প্রস্তুত আছি।

এ বিষয়ে মিডিয়ার সামনে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমান বলেন, ‘লোকবলের অভাবে হাসপাতাল যেভাবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা প্রয়োজন, সেভাবে সম্ভব হচ্ছে না। ২০১০ সালে ৬০০ শয্যার হাসপাতাল এক হাজার শয্যায় উন্নীত হয়েছে। অথচ এখনও ৬০০ শয্যার জনবল দিয়ে প্রায় তিন হাজার রোগীকে সেবা দেওয়া হচ্ছে। ফলে যথাযথভাবে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা সম্ভব হয় না। হাসপাতালের বাইরের অংশ সিটি করপোরেশনসহ যৌথভাবে পরিষ্কার করার কথা থাকলেও তাদেরও জনবলের অভাবে সেটা সম্ভব হচ্ছে না। আমরা স্বল্প লোকবল দিয়ে পরিচ্ছন্ন রাখার চেষ্টা করছি।’

হাসপাতালের পরিচ্ছন্নকর্মীরা ওয়ার্ডের সামনে আবর্জনা ফেলার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, নির্দিষ্ট স্থান ছাড়া যত্রতত্র আবর্জনা ফেলার সুযোগ নেই। এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সূত্র: আমার দেশ