এক দিনের ব্যবধানে ফের চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ক্যাম্পাস থেকে আরেকটি কিং কোবরা সাপ উদ্ধার করেছে সোসাইটি ফর স্নেক অ্যান্ড স্নেক বাইট অ্যাওয়ারনেস।
রোববার (১২ এপ্রিল) বিকেলে ক্যাম্পাসের নাট্যকলা বিভাগ এলাকা থেকে প্রায় ১২ ফুট দীর্ঘ এবং আনুমানিক ৬ কেজি ওজনের সাপটি উদ্ধার করা হয়।
এর আগে গত শুক্রবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ঝর্ণা এলাকা থেকে ৮ ফুট দীর্ঘ আরেকটি কিং কোবরা সাপ উদ্ধার করেছিল সাপ এবং সর্পদংশন বিষয়ে সচেতনা তৈরিতে কাজ করা সংগঠনটি। তার আগে ২০১৬ ও ২০২১ সালেও বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা থেকে এ প্রজাতির সাপ উদ্ধার করা হয়েছিল।
সোসাইটি ফর স্নেক অ্যান্ড স্নেক বাইট অ্যাওয়ারনেসের প্রতিষ্ঠাতা, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম বলেন, সাপটি দেখে নাট্যকলা বিভাগের শিক্ষার্থীরা আমাদের হেল্পলাইন নম্বরে কল দেন। পরে আমাদের উদ্ধারকারী টিম সেখানে গিয়ে ৩০ মিনিটের প্রচেষ্টায় সাপটি উদ্ধার করেছে।
সংগঠনের উপদেষ্টা ও প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ইব্রাহীম খলিল আল হায়দার বলেন, “সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় একাধিকবার রাজ গোখরা দেখা যাওয়ার পেছনে পরিবেশগত কারণ রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পশ্চিম পাশের পাহাড়গুলো মূলত বন বিভাগ ও স্থানীয়দের দখলে; যেখানে চাষাবাদসহ বিভিন্ন মানবিক কর্মকাণ্ড চলছে। ফলে সাপের স্বাভাবিক আবাসস্থল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং তারা নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে লোকালয়ে চলে আসছে।”
আগাছা পরিষ্কার, আগুন দেওয়া ও আবাসস্থল ধ্বংসের মত কর্মকাণ্ডও এ পরিস্থিতিকে ত্বরান্বিত করছে বলে তিনি মনে করেন।
সোসাইটি ফর স্নেক অ্যান্ড স্নেক বাইট অ্যাওয়ারনেস জানিয়েছে, শুক্রবার এবং রোববার উদ্ধার হওয়া রাজ গোখরা সাপ দুটি বর্তমানে সহকারী অধ্যাপক ইব্রাহীম খলিল আল হায়দারের হেফাজতে রয়েছে।
এ বিষয়ে ইব্রাহীম খলিল আল হায়দার বলেন, “অ্যাকাডেমিক ব্যস্ততার জন্য উদ্ধার হওয়া সাপ দুটি এখনো অবমুক্ত করা যায়নি। গবেষণার জন্য সাপের শরীর থেকে কিছু নতুনা সংগ্রহ করা হবে। সাপ দুটি শিগগিরই ক্যাপাসের দক্ষিণ-পশ্চিমদিকের পাহাড়ে প্রাকৃতিক বনে অবমুক্ত করা হবে। কারণ এসব পাহাড়ে শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষ যায় না।”







