ঢাকা | শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬,৫ বৈশাখ ১৪৩৩

‎মাভাবিপ্রবিতে ভিসি পরিবর্তনের গুঞ্জন: নিজস্ব শিক্ষক থেকে ভিসি নিয়োগের দাবি শিক্ষার্থীদের



মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (মাভাবিপ্রবি) উপাচার্য (ভিসি) অধ্যাপক ড. আনোয়ারুল আজীম আখন্দকে কেন্দ্র করে ভিসি পরিবর্তনের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে। সম্ভাব্য নতুন ভিসি নিয়োগের বিষয়টি সামনে আসতেই অধিকাংশ শিক্ষার্থী নিজস্ব শিক্ষকদের মধ্য থেকেই উপাচার্য নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন।

‎শিক্ষার্থীরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে আচার্যের ( মহামান্য রাষ্ট্রপ্রতি) অনুমোদনক্রমে উপাচার্য পরিবর্তনের নজির তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন ভিসি নিয়োগের পর মাভাবিপ্রবিতেও একই ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে—এমন ধারণা থেকেই এ আলোচনা আরও জোরালো হয়েছে।

‎এদিকে, মাভাবিপ্রবি সাংবাদিক সমিতির উদ্যোগে পরিচালিত এক অনলাইন জরিপে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের প্রায় ৭৬.৫  শতাংশ নিজস্ব শিক্ষক থেকে ভিসি নিয়োগের পক্ষে মত দিয়েছেন। অপরদিকে ১৩.৫  শতাংশ শিক্ষার্থী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান থেকে উপাচার্য আনার পক্ষে মত দেন। এছাড়া ১০ শতাংশ শিক্ষার্থী বর্তমান ভিসিকে বহাল রাখার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।

‎পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী নাবী হোসেন বলেন, “মাভাবিপ্রবির উপাচার্য হিসেবে নিজস্ব শিক্ষকদের মধ্য থেকেই কাউকে নিয়োগ দেওয়া উচিত। তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে এই ক্যাম্পাসে কাজ করছেন এবং এখানকার প্রশাসনিক কাঠামো, গবেষণা কার্যক্রম ও শিক্ষার্থীসম্ভাবদের সমস্যা-না সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা রাখেন। বাইরের কেউ এলে এসব বুঝতে সময় লাগে, ফলে সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিলম্ব হয়। দ্রুত ও কার্যকর সিদ্ধান্তের জন্য অভ্যন্তরীণ শিক্ষকই বেশি উপযোগী।”

‎হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী রাকিবুল ইসলাম রাব্বি বলেন, “নিজস্ব ক্যাম্পাস থেকে ভিসি নিয়োগ দিলে জবাবদিহিতা ও দায়বদ্ধতা বেশি থাকে। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ থাকায় সমস্যা দ্রুত চিহ্নিত ও সমাধান করা সম্ভব হয়। অতীতে দেখা গেছে, বাইরের ভিসিরা অনেক সময় ক্যাম্পাসের বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি খাপ খাওয়াতে পারেন না।”

‎তবে ভিন্নমতও রয়েছে, টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী এম.কে সাহেল  বলেন, “বাইরের কোনো স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অভিজ্ঞ শিক্ষককে ভিসি হিসেবে আনা হলে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি আসতে পারে। অন্য প্রতিষ্ঠানে কাজের অভিজ্ঞতা থেকে নতুন পরিকল্পনা ও সংস্কারমূলক উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব, যা দীর্ঘমেয়াদে বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে সহায়ক হবে।”

‎একই সুরে পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী এবং  বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের শিক্ষা ও পাঠচক্র সম্পাদক ওয়াসিফ অয়ন বলেন, “বর্তমান সময়ে একটি বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনার জন্য শুধু অভ্যন্তরীণ অভিজ্ঞতা নয়, বরং বৃহত্তর একাডেমিক ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতাও প্রয়োজন। বাইরের প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দক্ষ প্রশাসক এলে আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা ও নীতিগত উন্নয়নের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তাই বিষয়টি আবেগ নয়, সামগ্রিক যোগ্যতা বিবেচনায় সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।”

অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী আবির রহমান বলেন, “ভিসি নিয়োগের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হওয়া উচিত যোগ্যতা, সততা ও নেতৃত্বদানের সক্ষমতা। তিনি নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের হোন বা বাইরের—যিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়ন, গবেষণার মান বৃদ্ধি এবং শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন, তাকেই দায়িত্ব দেওয়া উচিত। তবে নিজস্ব শিক্ষক হলে ক্যাম্পাস সম্পর্কে পূর্ব ধারণা থাকায় কাজের গতি কিছুটা বেশি হতে পারে।”

‎শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশের মতে, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম স্বচ্ছ ও কার্যকরভাবে পরিচালনার জন্য অভ্যন্তরীণভাবে অভিজ্ঞ ও সৎ শিক্ষকই সবচেয়ে উপযুক্ত। এ কারণে উপাচার্যের পাশাপাশি উপ-উপাচার্য ও ট্রেজারার পদেও নিজস্ব শিক্ষকদের অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

এদিকে সংশ্লিষ্ট সূত্রে অনানুষ্ঠানিকভাবে শোনা যাচ্ছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় বা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো অধ্যাপককে ভিসি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হতে পারে। তবে নিজস্ব বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই নিয়োগ দেওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। এ বিষয়ে এখনো পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।