ঢাকা | বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬,২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩

মহাকাশে ধান চাষে চীনের সাফল্য

কল্পবিজ্ঞানের গল্পকে বাস্তবে রূপ দিয়ে মহাকাশের কক্ষপথে ধান চাষ করে সফল হয়েছেন চীনের নভোচারীরা।

দেশটির নিজস্ব মহাকাশ স্টেশন তিয়ানগংয়ে এই বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা করা হয়। দীর্ঘমেয়াদি মহাকাশ অভিযানে পৃথিবীর ওপর খাদ্যের নির্ভরতা কমিয়ে চাঁদ, মঙ্গল গ্রহ বা গভীর মহাকাশে মানববসতি স্থাপনের গবেষণায় এই অর্জনকে বড় মাইলফলক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

গত ২৪ মে উৎক্ষেপণ করা শেনঝৌ-২৩ মিশনের মাধ্যমে ধানের বীজ তিয়ানগং মহাকাশ স্টেশনে নেওয়া হয়েছিল। দুই মাসের বেশি সময় ধরে নিবিড় পরিচর্যার পর নভোচারী জু ইয়াংঝু, ঝাং ঝিয়ুয়ান এবং লাই কা-ইং প্রথম ধাপের ধানের নমুনা সংগ্রহ বা ধান কাটার কাজ সম্পন্ন করেছেন। প্রকাশ করা ভিডিওতে নভোচারীদের ধান সংগ্রহ করে গবেষণার জন্য তা নিরাপদে সংরক্ষণ করতে দেখা গেছে।

এর আগে ২০২২ সালে তিয়ানগং স্টেশনে ১২০ দিনে সম্পূর্ণ জীবনচক্র সম্পন্ন করে ধান উৎপাদনে সফল হয়েছিল চীন। সে সময় উৎপাদিত ৫৯টি স্পেস সিড পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনা হয়েছিল। তবে নতুন এই গবেষণায় মহাকাশে পরপর দুই প্রজন্মের ধান চাষ করার উপায় খুঁজছেন নভোচারীরা। মহাকাশের পরিবেশে ধানের একাধিক প্রজন্ম বড় হলে সেগুলো প্রতিকূল পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে পারে কি না, তা জানতে বিভিন্ন ধরনের গবেষণাও করছেন তাঁরা।

গবেষণায় মোট চারটি চাষের ইউনিট রয়েছে, যেখানে দুই ধরনের জ্যাপোনিকা চালের বীজ পরীক্ষা করা হচ্ছে। একটি স্বাভাবিক বীজ এবং অন্যটি ২০২২ সালের মহাকাশে উৎপাদিত ধানের বংশধর। গবেষণা চলাকালে প্রথমবার ধান কাটার পর গোড়া বা শিকড় রেখে দেওয়া হয়েছিল, যেখান থেকে আবার নতুন কুঁড়ি জন্মেছে। নভোচারীরা বর্তমানে ধানের নতুন শিষ সংগ্রহের পাশাপাশি কাণ্ড ও পাতা কম তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করছেন। পরবর্তী সময়ে এগুলো পৃথিবীতে এনে বিশ্লেষণ করে ভবিষ্যৎ মহাকাশ কৃষির প্রযুক্তি আরও উন্নত করা হবে।

সূত্র: এনডিটিভি