ঢাকা | বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬,৭ শ্রাবণ ১৪৩৩

মুখ খুললেন মোদি, মিছিল স্থগিত ‘ককরোচ’ পার্টির

জাতীয় পর্যায়ের পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসকে কেন্দ্র করে চলমান বিক্ষোভের মধ্যে প্রথমবারের মতো মুখ খুললেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) তিনি দেশজুড়ে একটি ত্রুটিমুক্ত ও নির্ভুল (ফুলপ্রুফ) পাবলিক পরীক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন। খবর রয়টার্সের।

এর আগে সোমবার যুব নেতৃত্বাধীন ‘ককরোচ’ বা তেলাপোকা আন্দোলনের সমর্থকদের সঙ্গে সংসদ অভিমুখে মিছিলের সময় দেশটির পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে।সংবাদ প্রতিবেদন

ভারতের মন্ত্রিসভার সদস্য ও সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু জানান, গত মে মাসে মেডিকেল কলেজে ভর্তির জাতীয় পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ পাওয়ার পর সরকার দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে। এ ঘটনায় ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি পুনঃপরীক্ষা সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং ফল প্রকাশেও কোনো বিলম্ব হয়নি বলে মোদি উল্লেখ করেছেন।

রিজিজুর ভাষ্য, মোদি বলেছেন যে যুবসমাজের ভবিষ্যৎ যাতে কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে জন্য সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে, দোষীদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে এবং এমন একটি নির্ভুল পরীক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে।

দেশটিতে গত মে মাসে অনুষ্ঠিত মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় ২০ লাখের বেশি শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আন্দোলনকারীদের দাবি, এ ঘটনার কারণে কয়েকজন শিক্ষার্থী আত্মহত্যাও করেছেন।
তারই পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিবাদে সোমবার হাজারো তরুণ-তরুণী সংসদ ভবনের দিকে মিছিল করে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করেন। এ সময় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
দিল্লি পুলিশের দাবি, সংঘর্ষে অন্তত ১৮০ জন আহত হন। এর মধ্যে ১১৮ জন পুলিশ ও নিরাপত্তাকর্মী এবং ৬০ জন বিক্ষোভকারী রয়েছেন।

অন্যদিকে, নিজেদের ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) নামে পরিচয় দেয়া আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকের দাবি, ১৫০ জনের বেশি বিক্ষোভকারী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।


বার্তাসংস্থা রয়টার্স স্বাধীনভাবে আহতের প্রকৃত সংখ্যা যাচাই করতে পারেনি বলে জানিয়েছে। তবে সংঘর্ষের সময় পুলিশ লাঠিচার্জ ও টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করেছে।

আর মিছিল নয়

মঙ্গলবার সিজেপি জানায়, তারা সরকারবিরোধী আন্দোলন চালিয়ে যাবে, তবে আপাতত সংসদ অভিমুখে আর কোনো মিছিল করবে না। কারণ, তাদের আশঙ্কা, আবারও পুলিশি হামলার মুখে পড়তে হতে পারে।
রয়টার্স জানিয়েছে, মঙ্গলবার দিল্লির জন্তর মন্তরে প্রায় ৫০০ বিক্ষোভকারী জড়ো হয়ে স্লোগান দেন। হালকা বৃষ্টির মধ্যেও সেখানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। সে সময় দেশটির আধাসামরিক বাহিনীর সদস্যরা টহল দেন এবং বিভিন্ন স্থানে ব্যারিকেড বসিয়ে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে।

অভিজিৎ দিপকে বলেন, আমরা চাই না আরও তরুণ-তরুণী আহত হোক। বিশেষ করে নারী সমর্থকদের ওপর পুরুষ পুলিশ সদস্যদের হামলার ঘটনায় আমি দুঃখ প্রকাশ করছি।

অন্যদিকে, দিল্লি পুলিশের অভিযোগ, বিক্ষোভকারীরা নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ‘উচ্ছৃঙ্খল, আক্রমণাত্মক ও সহিংস আচরণ’ করেছে, যদিও তাদের আগেই সতর্ক করা হয়েছিল।

এবারের এই আন্দোলনটি নতুন গতি পায় পরিবেশবাদী ও সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুকের সমর্থনের পর। তিনি গত ২৮ জুন অনশন শুরু করেন। পরে শনিবার পুলিশ তাকে জোর করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।
মঙ্গলবার দিল্লি হাইকোর্ট ওয়াংচুককে সরকারি হাসপাতাল থেকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরের অনুমতি দিয়েছে। তার স্ত্রী আদালতে আবেদন করে অভিযোগ করেছিলেন, তাকে বেআইনিভাবে আটক রাখা হয়েছে।

সরকারের সঙ্গে আলোচনা, তিন দফা দাবি


সিজেপির দাবি, সোমবার দুই নেতার সঙ্গে বৈঠকের পর কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে.পি. নাড্ডা তাদের দাবিগুলো নিয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনার জন্য সময় চেয়েছেন। আন্দোলনকারীদের প্রধান দাবিগুলো হলো, সোনম ওয়াংচুকের মুক্তি, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ, প্রশ্নপত্র ফাঁসের জেরে আত্মহত্যা করা প্রায় এক ডজন শিক্ষার্থীর প্রত্যেকের পরিবারকে এক কোটি রুপি ক্ষতিপূরণ প্রদান।

এদিকে মঙ্গলবার নাড্ডা দিল্লির একটি সরকারি হাসপাতালে গিয়ে আহত বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, সিজেপি আন্দোলনের জনপ্রিয়তা ভারতের তরুণদের ক্রমবর্ধমান হতাশার প্রতিফলন। চাকরির সংকট, ঘন ঘন প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং শিক্ষা ব্যবস্থায় দুর্নীতির অভিযোগ তরুণদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়িয়ে তুলেছে।


অভিজিৎ দিপকে ও তার সমর্থকেরা গত মাস থেকেই শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে আসছেন।