ঢাকা | বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬,৭ শ্রাবণ ১৪৩৩

কাফির বিরুদ্ধে শিক্ষকের চাঁদাবাজি মামলা

আলোচিত কন্টেন্ট ক্রিয়েটর নুরুজ্জামান কাফি, তার বাবা ও বড় ভাইয়ের বিরুদ্ধে জমি দখল ও চাঁদাবাজির মামলা করা হয়েছে। রোববার (২১ জুলাই) খেপুপাড়া সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহিম কলাপাড়ার বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন।

বিজ্ঞ আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে তদন্তের জন্য কলাপাড়া থানার ওসি নজরুল ইসলামকে নির্দেশ দিয়েছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ১১ জুলাই সকাল সোয়া ১০টার দিকে রজাপাড়া গ্রামের নুরুজ্জামান কাফি, তার বাবা এবিএম হাবিবুর রহমান ও বড় ভাই মামুন মাটি কাটার ভেকু মেশিন, ভ্যান, কোদাল এবং ইটের খোয়া নিয়ে খেপুপাড়া সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের রজপাড়া মৌজার বিএস ১২ নম্বর খতিয়ানের ৫৯ নম্বর দাগের জমিতে প্রবেশ করে। পরে জমির মাটি কেটে আকার-আকৃতি পরিবর্তন করে চলাচলের রাস্তা তৈরির চেষ্টা করে।

খবর পেয়ে ওই বিদ্যালয়ের পাঁচজন সহকারী শিক্ষক নিয়ে প্রধান শিক্ষক ঘটনাস্থলে যান এবং রাস্তা তৈরিতে বাধা দেন। এতে কাফি ক্ষিপ্ত হয়ে আবদুর রহিমের কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে কাফি সকল শিক্ষকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন এবং ধাক্কাধাক্কি দিয়ে তাদের খুন জখমের ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন।

পরে কাফি, তার বাবা ও বড় ভাই ১১০ ফুট দৈর্ঘ্যের ও ৩০ ফুট প্রস্থের প্রায় ৬ শতাংশ জমির অন্তত এক লাখ টাকার মাটি কেটে ট্রলি গাড়িতে নিয়ে বাড়িসহ বিভিন্ন জায়গায় স্তূপ করে রাখে এবং ওই জমিতে ছোট ছোট আকৃতির পাথর ফেলে রাস্তা তৈরি করে। এতে প্রায় ৫ লাখ টাকা ক্ষতিসাধন হয়েছে বলে আবদুর রহিম মামলায় উল্লেখ করেন।

প্রধান শিক্ষক আবদুর রহিম বলেন, কলাপাড়ার বি.এস. জে.এল নং-৯ রজপাড়া মৌজার বি.এস খতিয়ান নং-১২, বি.এস দাগ নং-৫৯, ২০৫, ২০৬, ২০৭, ২০৮, ২৮৩, ৩০৬, ৩৪৪, ৩৪৫, ৩৪৯, ১১১৫ হইতে মোট ২১.৭৬ একর জমির মালিক খেপুপাড়া সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন যাবৎ শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখলে থেকে সরকারি খাসজমিসহ নির্ধারিত সীমানায় অবস্থান করে আসছে। ঘটনার পরে আমি তাদের স্থানীয়ভাবে আপস-মীমাংসার চেষ্টা করি। কিন্তু কাফিসহ তার পরিবার আপোষ-মীমাংসায় রাজি হয়নি।

তিনি আরও বলেন, আমি কলাপাড়া থানায় মামলা করতে গেলে থানা কর্তৃপক্ষ আমাকে বিজ্ঞ আদালতে মামলা করার পরামর্শ প্রদান করেন। পরে আদালতে মামলা করি। বিদ্যালয়ের জমিজমা রক্ষার্থে আমি ন্যায় বিচারের দাবি জানাচ্ছি।

নুরুজ্জামান কাফি বলেন, এ জমির ওয়ারিশগণ দীর্ঘদিন মামলা চালিয়ে সুপ্রিম কোর্ট থেকে রায় পেয়েছে। তাদের কাছ থেকে আমি বায়না সূত্রে খরিদ করি। মালিকপক্ষ জমি বুঝিয়ে দেওয়ার পর আমি রাস্তা নির্মাণ করি। স্কুলের প্রধান শিক্ষক রহিমের সঙ্গে আমার সামনাসামনি দেখা হয়নি এবং কথাও হয়নি। আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ এনে আদালতে মামলা করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। সুষ্ঠুভাবে তদন্ত করলেই এর আসল সত্যতা বেরিয়ে আসবে।

কলাপাড়া সিনিয়র জুডিশিয়াল আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. ফেরদৌস মিয়া বলেন, মামলাটি রুজু করা হয়েছে। বিজ্ঞ আদালত কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলামকে তদন্ত সাপেক্ষে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দায়িত্ব দিয়েছেন।