সরকার গঠন করার পর দেশের ১২ লাখ কৃষকের কৃষি ঋণ মওকুফ করে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। একই সঙ্গে দেশের চিকিৎসাসেবা ও সামাজিক নিরাপত্তা জোরদারে প্রতি উপজেলায় ১০১ শয্যার হাসপাতাল নির্মাণ এবং আগামী এক বছরের মধ্যে প্রতিটি উপজেলায় আট হাজার পরিবারের কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
বুধবার (১৭ জুন) বিকেলে মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব উন্নয়ন পরিকল্পনা ও রাজনৈতিক সমসাময়িক বিষয় তুলে ধরেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে দেশের মানুষ বিএনপিকে বেছে নিয়েছে। বিএনপি আগে কেবল একটি রাজনৈতিক দল ছিলো, কিন্তু সরকার গঠনের পর এই সরকার এখন দেশের প্রত্যেক শ্রেণি ও পেশার মানুষের সরকারে পরিণত হয়েছে। দেশে গণতান্ত্রিক অধিকার ও বাকস্বাধীনতা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলেই আমরা আজ জনগণের জন্য প্রকৃত কাজ করতে পারছি।
এক যুগ ধরে দেশের মানুষ ভোটের অধিকার ও বাকস্বাধীনতার জন্য আন্দোলন করেছে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, দেশের মানুষ এখন স্থিতিশীলতা, শান্তি, কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসার সুব্যবস্থা চায়। জনগণের এই ভাগ্যের পরিবর্তন করতে আমাদের নিরলস পরিশ্রম করতে হবে। তবে সরকারের যেমন দায়িত্ব আছে, দেশের জনগণকেও সমানভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
সরকারবিরোধী রাজনৈতিক তৎপরতার সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যখনই দেশের অর্থনীতি ও নিরাপত্তা স্থিতিশীল হতে থাকে, তখনই কেউ কেউ নতুন করে অরাজকতা সৃষ্টি করতে চায়। অতীতে যারা বিএনপির বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছিলো, তারা এখন বলছে সরকারকে সময় দেওয়া যাবে না। যারা বলে সরকারকে সময় দেবে না, তারা আসলে জনগণের বিপক্ষে এবং নিজেদের ব্যক্তিস্বার্থে কথা বলে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপির শক্তির একমাত্র উৎস হলো দেশের জনগণ। জনগণই ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপিকে বিজয়ী করেছে। নির্বাচনের পরদিন থেকেই বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার এখন দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ইশতেহার হয়ে উঠেছে। জনগণই সিদ্ধান্ত নিয়েছে আগামী পাঁচ বছর বিএনপি দেশ চালাবে।





