সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জের একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা বিউটি রানী পালের গান গাওয়ার একটি ভিডিয়ো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। কিছু নেটিজেন এর সমালোচনা করলেও, দেশের বিভিন্ন প্রান্তের শিক্ষক-শিক্ষিকা ও সাধারণ মানুষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার পাশে দাঁড়িয়ে সংহতি প্রকাশ করছেন।
বিষয়টি নিয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি স্পষ্ট জানান, গান গাওয়া কোনো অপরাধ হতে পারে না।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, গান গাওয়া অন্যায়, এটা আর কেউ মানুক আর না মানুক আমি মানতে রাজি না। আমার ব্যক্তিগত কোনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নেই, তাই বিষয়টি আমি আপনার কাছ থেকেই প্রথম জানলাম এবং ভিডিয়োটিও দেখিনি। তবে যাদের কাছে শুনেছি, তারা বলেছেন সেখানে কোনো অশ্লীলতা নেই। যদি সত্যিই কোনো অশ্লীলতা না থাকে, তাহলে শুধু গান গাওয়াকে আমি অন্যায় মনে করি না।
এ ঘটনায় শিক্ষক সমাজের অনেকেই বলছেন, শিক্ষকরাও রক্ত-মাংসের মানুষ। তাদেরও আনন্দ-বেদনা, ব্যক্তিগত জীবন ও মত প্রকাশের অধিকার রয়েছে। প্রতিদিন সমাজে নানা অশালীন ও অনৈতিক ঘটনা ঘটলেও তা নিয়ে তেমন আলোচনা হয় না। অথচ শিক্ষকরা ব্যক্তিগত জীবনের কোনো সাধারণ বিষয় প্রকাশ করলেই তা সমালোচনার মুখে পড়ে।
এবিষয়ে ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ সোহেল মোল্লা বলেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হয়েছে এবং প্রাথমিকভাবে একটি তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা হবে সংশ্লিষ্ট প্রধান শিক্ষিকার কর্মকাণ্ডে সরকারি আচরণবিধি বা অন্য কোনো বিধি-নিষেধ লঙ্ঘিত হয়েছে কি না। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পরই প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।
বিদ্যালয় চলাকালীন সময়ে এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তদন্ত প্রক্রিয়া চলমান থাকায় এ মুহূর্তে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করা সমীচীন হবে না।
প্রসঙ্গত, জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬ উপলক্ষে সিলেট জেলার শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষিকা নির্বাচিত হন বিউটি রানী পাল। তিনি শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন।





