ঢাকা | রবিবার, ২ আগস্ট ২০২৬,১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩

৪৮১ বিদ্যালয়ের ২৭৯টিতেই প্রধান শিক্ষক নেই, পাঠদান ব্যাহত

রাজবাড়ী জেলার ৪৮১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ২৭৯টিতেই দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষক পদটি খালি হয়ে আছে। অর্থাৎ জেলার ৫৮ শতাংশ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই। এতে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করানোসহ দাপ্তরিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বিঘ্নিত হচ্ছে।

সরেজমিনে গোয়ালন্দ পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের নগরবাসী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, প্রধান শিক্ষক ও দপ্তরিসহ মোট ছয়টি অনুমোদিত পদের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র তিনজন শিক্ষক। তাদের একজন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন। প্রতিদিন প্রশাসনিক নথিপত্র প্রস্তুত, মিড-ডে মিল (ফিডিং) কার্যক্রম তদারকি, বিভিন্ন দাপ্তরিক তথ্য অনলাইনে প্রেরণ এবং উপজেলা শিক্ষা অফিসের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগে ব্যস্ত থাকতে হওয়ায় তিনি শ্রেণিকক্ষে প্রয়োজনীয় সময় দিতে পারেন না।

ফলে বিদ্যালয়ের বাকি দুই শিক্ষককে একসঙ্গে দুটি করে শ্রেণির পাঠদান পরিচালনা করতে হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীরা প্রয়োজনীয় মনোযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এবং মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। জেলার আরও শতাধিক বিদ্যালয়ে একই ধরনের পরিস্থিতি বিরাজ করছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে পদোন্নতি না হওয়ায় প্রধান শিক্ষকের শূন্য পদ ক্রমেই বাড়ছে। প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি পাঠদান চালিয়ে নেওয়া অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। তারা বলেন, যোগ্য সহকারী শিক্ষকদের দ্রুত পদোন্নতির মাধ্যমে শূন্য পদ পূরণ করা গেলে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রমে গতি ফিরবে।

গোয়ালন্দ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. লুৎফর রহমান খান বলেন, প্রধান শিক্ষকের বেশ কয়েকটি পদ শূন্য থাকায় শিক্ষা কার্যক্রম কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে। সহকারী শিক্ষককে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেওয়া হলেও কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যায় না। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি গঠনের কাজ চলছে। কমিটি গঠন শেষে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে রাজবাড়ী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. তবিবুর রহমান বলেন, জেলায় প্রায় ৫৮ শতাংশ প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে সংকট নিরসনে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

শিক্ষাবিদ ও সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার ভিত্তি শক্তিশালী করতে হলে দ্রুত প্রধান শিক্ষক নিয়োগ, যোগ্য সহকারী শিক্ষকদের পদোন্নতি এবং শূন্য শিক্ষক পদ পূরণে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। অন্যথায় প্রশাসনিক সংকটের পাশাপাশি শিক্ষার মান আরও অবনতির আশঙ্কা রয়েছে।