ঢাকা | রবিবার, ২ আগস্ট ২০২৬,১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩

অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে শাবিপ্রবি শিক্ষার্থীর মানিব্যাগ-মোবাইল ছিনতাই

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) এক শিক্ষার্থীকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় দুর্বৃত্তরা তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাতও করে। তবে পালিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয়দের সহায়তায় এক ছিনতাইকারীকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে।

শনিবার (১ আগস্ট) রাত আনুমানিক ৯টার দিকে সিলেটের গোয়াবাড়ি চা-বাগান এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী মো. হাবিবুল্লাহ মেসবাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, শনিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে গোয়াবাড়ির কুচারপাড়ায় টিউশনি করাতে যান হাবিবুল্লাহ মেসবাহ। রাত ৯টার দিকে টিউশন শেষে ফেরার পথে রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজের বিদেশি (নেপালি) হোস্টেলের সামনে পৌঁছালে তিনজন দুর্বৃত্ত অস্ত্রের মুখে তাকে জিম্মি করে। পরে তাকে পাশের চা-বাগানের ভেতরে নিয়ে গিয়ে তার সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেয়। এ সময় স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় একজন ছিনতাইকারীকে আটক করা সম্ভব হয়।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী হাবিবুল্লাহ মেসবাহ বলেন, রাত ৯টার দিকে টিউশন থেকে ফেরার পথে তিন ছিনতাইকারী আমাকে আটক করে গোয়াবাড়ি চা-বাগানে নিয়ে যায়। সেখানে অস্ত্রের মুখে আমাকে ভয় দেখিয়ে জিম্মি করে মোবাইল ও মানিব্যাগ নিয়ে যায়।

তিনি আরও বলেন, টাকা ও মোবাইল নেয়ার পরও তারা আমাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। আঘাতপ্রাপ্ত অবস্থায় আমি কিছুটা সামনে এগিয়ে এসে স্থানীয় লোকজনের কাছে সাহায্য চাই। এলাকাবাসীর তাৎক্ষণিক সহায়তায় আমরা তিনজন দুর্বৃত্তের মধ্যে একজনকে হাতেনাতে ধরে ফেলতে সক্ষম হই। পরে বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জানানো হলে তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তাদের উপস্থিতিতে আটককৃত ছিনতাইকারীকে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, জালালাবাদ থানায় গিয়ে মামলা করতে আগ্রহ প্রকাশ করলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নিজে বাদী না হয়ে আমাকে বাদী হতে বলছে। তবে এ ঘটনায় এখনো কোনো মামলা করা হয়নি বলে জানান তিনি।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মোখলেছুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছাই। আটককৃত একজনকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় রাতেই মামলা করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।