ঢাকা | রবিবার, ২ আগস্ট ২০২৬,১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩

মৃত শিক্ষকের এমপিও ইনডেক্স দিয়ে ২০ বছর ধরে বেতন তুলছেন জামায়াত নেতা

ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলার একটি দাখিল মাদরাসায় এক মৃত শিক্ষকের এমপিও ইনডেক্স ও ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করে দীর্ঘ ২০ বছর ধরে অনৈতিকভাবে সরকারি বেতন-ভাতা উত্তোলনের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে।

অভিযুক্ত ব্যক্তি হলেন মো. মহিউদ্দিন। তিনি উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি এবং তজুমদ্দিন ডিগ্রি কলেজের অফিস সহকারী হিসেবে কর্মরত।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই দাখিল মাদরাসার জুনিয়র শিক্ষক মো. মহিউদ্দিনের মৃত্যুর পর একই নাম হওয়ার সুযোগ নেন জামায়াত নেতা মো. মহিউদ্দিন। মৃত শিক্ষকের এমপিও ইনডেক্স নম্বর এবং ব্যাংক হিসাব নম্বর ব্যবহার করে জালিয়াতির মাধ্যমে বিগত দুই দশক ধরে প্রতি মাসে নিয়মবহির্ভূতভাবে সরকারি বেতন ও ভাতার টাকা তুলে আত্মসাৎ করে আসছিলেন তিনি।

বিষয়টি জানার পর মোহাম্মদ ভেলা ওমরিয়া ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসার সুপার মাওলানা মো. নুরুজ্জামান মাদরাসা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। একইসঙ্গে অভিযোগের তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানান তিনি।

অভিযোগে বলা হয়েছে, তজুমদ্দিন উপজেলার মো. ভেলা ওমরিয়া দাখিল মাদরাসায় ১৯৯৪ খ্রিষ্টাব্দের ১৩ মার্চ জুনিয়র শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পান মো. মহিউদ্দিন। পরবর্তীতে তার মৃত্যুর পর পদটি শূন্য হয়ে যায়। এরপর ২০০৬ খ্রিষ্টাব্দের ৭ সেপ্টেম্বর তজুমদ্দিন ডিগ্রি কলেজের অফিস সহকারী মো. মহিউদ্দিন একই প্রতিষ্ঠানে সহকারী শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পান।

লিখিত অভিযোগে আরও বলা হয়, ২০০৫ খ্রিষ্টাব্দে শিক্ষক নিবন্ধন ব্যবস্থা চালুর পরও তথ্য গোপন করে ২০০৬ খ্রিষ্টাব্দে বিধিবহির্ভূতভাবে নিয়োগ নেওয়া হয়। একই সঙ্গে মৃত শিক্ষকের এমপিও ইনডেক্স ও ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করে দীর্ঘদিন সরকারি বেতন-ভাতা উত্তোলনের মাধ্যমে আর্থিক সুবিধা নেওয়া হয়েছে, যা জালিয়াতির শামিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক মো. মহিউদ্দিন। তিনি বলেন, ‘হিসাব নম্বর এক হলেও ওই অ্যাকাউন্ট থেকে কোনো বেতন তোলা হয়নি। নিয়োগের সময়ও কোনো তথ্য গোপন করা হয়নি।’

অভিযোগকারীদের দাবি, ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দের জুন মাসের এমপিও কপিতে মৃত শিক্ষক মো. মহিউদ্দিনের হিসাব নম্বর থেকে বেতন-ভাতা উত্তোলনের তথ্য পাওয়া গেছে।

এ বিষয়ে মোহাম্মদ ভেলা ওমরিয়া দাখিল মাদরাসার সুপার মাওলানা নুরুজ্জামান বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর বিষয়টি জানতে পেরে তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছেন। দীর্ঘদিন ধরে বিষয়টি নিয়ে জটিলতা থাকায় লিখিতভাবে তদন্তের আবেদন করা হয়েছে।

তজুমদ্দিন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম বলেন, অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে।