আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথের পুরোনো চোট সারিয়ে তুলতে হাসপাতালের শয্যায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শাখা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মো. আসাদুজ্জামান আসলাম।
রোববার (২৮ জুন) পায়ের গুরুতর লিগামেন্ট অপারেশন করানোর রাজধানীর ধানমন্ডিস্থ ইবনে সিনা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন রাজপথের এই পরিচিত মুখ। বিগত দুই দশকের ছাত্র রাজনীতিতে একাধিকবার হামলা, মামলা ও পুলিশের লাঠিচার্জের শিকার হওয়া এই ছাত্রনেতার অস্ত্রোপচার আজই সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।
বরগুনা জেলার বেতাগী থানার বিবিচিনি গ্রামের এক মধ্যবিত্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম নেওয়া আসলামের শিক্ষা জীবন বেশ উজ্জ্বল। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগ থেকে বিএসসি (সম্মান) ও এমএসসি শেষ করে পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকেও ইএমবিএ ডিগ্রি সম্পন্ন করেন তিনি। স্কুল জীবন থেকেই জাতীয়তাবাদী আদর্শে যুক্ত হন আসলাম। কলেজে ওঠে ছাত্রদলের নেতৃত্বে আসেন। পরবর্তীতে ২০০৪-২০০৫ শিক্ষাবর্ষে জবিতে ভর্তি হয়ে ক্যাম্পাস রাজনীতিতে সক্রিয় হন। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘ শাসনামলে প্রতিটি কেন্দ্রীয় ও ক্যাম্পাসভিত্তিক কর্মসূচিতে সম্মুখসারিতে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। আর এই দীর্ঘ লড়াইয়ের পথেই তার শরীরে যুক্ত হয়েছে একের পর এক চোট।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১১ সালের ১৪ জুলাই বিএনপি ও ছাত্রদলের মিছিলে পুলিশ ও ছাত্রলীগের যৌথ হামলায় তার একটি পা ভেঙে যায়। এরপর ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবরের মহাসমাবেশের সংঘাত এবং ২৯ জুলাইয়ের অবস্থান কর্মসূচিতেও তিনি গুরুতর আহত হন। ২০২২ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকা প্রেস ক্লাবের সামনে পুলিশের লাঠিচার্জ ও টিয়ারগ্যাসের আঘাতে গুরুতর আহত হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজে চিকিৎসাধীন ছিলেন। ২০২৩ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান- প্রতিটি আন্দোলনেই রাজপথে সক্রিয় ছিলেন আসলাম। গত ৪ আগস্ট ছাত্রজনতাকে ঢালাও গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে তার নেতৃত্বেই ঢাকার সিএমএম আদালত এলাকায় এক ব্যতিক্রমী ও সাহসী বিক্ষোভ করে জবি ছাত্রদল।
দীর্ঘদিনের এই লাগাতার আন্দোলন ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ধকল থেকেই মূলত তার পায়ের লিগামেন্টটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর আগে এক পায়ে বড় একটি অস্ত্রোপচার করাতে হয়। অন্য পায়ে দীর্ঘদিন ধরে অসহ্য যন্ত্রণা বয়ে বেড়ানোর পর অস্ত্রোপচার করানো হচ্ছে।





