ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় পূর্ব বিরোধ ও এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টাব্যাপী চলা এ সংঘর্ষে পুলিশ সদস্যসহ উভয় পক্ষের অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের জেরে প্রায় তিন ঘণ্টা ফরিদপুর-বরিশাল মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েন শত শত যাত্রী।
রোববার (২৮ জুন) সকাল ৯টার দিকে উপজেলার পুখুরিয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সংঘর্ষের সূচনা হয়। পরে তা বেলা সাড়ে ১২টা পর্যন্ত দফায় দফায় চলতে থাকে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, শনিবার হামিরদী ইউনিয়ন পরিষদে একটি মাদকবিরোধী সভা অনুষ্ঠিত হলে তা ঘিরে মহেশ্বরদী এলাকার কালাম কাজী ও শিরু মোল্লা পক্ষের সঙ্গে কবির তালুকদার ও দেলোয়ার তালুকদার পক্ষের বিরোধ সৃষ্টি হয়। সেই বিরোধের জেরে শনিবার রাতে কালাম কাজী পক্ষের সমর্থকরা দেলোয়ার তালুকদারের বাড়িতে হামলা চালায় বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনার পর থেকেই এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছিল।
এরই মধ্যে পাশ্ববর্তী মানিকদহ ইউনিয়নের সুলতান মাতুব্বর পক্ষের সমর্থকদের সঙ্গে পূর্ব বিরোধ এবং পুখুরিয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে হামিরদী ইউনিয়নের শিরু মোল্লার সমর্থকদের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের হাজারো সমর্থক দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে বাসস্ট্যান্ডের দুই পাশে অবস্থান নেয় এবং সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
সংঘর্ষ চলাকালে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। নিরাপত্তার স্বার্থে আশপাশের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। সংঘর্ষে পুলিশ সদস্যসহ উভয় পক্ষের অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সংঘর্ষের কারণে প্রায় তিন ঘণ্টা ফরিদপুর-বরিশাল মহাসড়কে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
ভাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।







