ঢাকা | শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬,২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তিতে বাজেটে ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ

২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রায় ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেট ঘোষণা করতে যাচ্ছে সরকার।আজ বৃহস্পতিবার উপস্থাপিত হতে যাওয়া এ বাজেট হবে নবনির্বাচিত সরকারের প্রথম বাজেট এবং সংখ্যার বিচারে বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বাজেট। এবারের বাজেটে শিক্ষা খাতকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তাই প্রস্তাবিত বাজেটে নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির জন্য ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষা খাতে রেকর্ড ১ লাখ ৩৬ হাজার ৬৪৬ কোটি টাকা বরাদ্দের মাধ্যমে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সামাজিক সুরক্ষা, অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা এবং শিক্ষা সংস্কার কার্যক্রমে নতুন গতি আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেল ৩টায় জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট উপস্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার সম্ভাব্য এই বাজেটের মাধ্যমে বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির পথে এগিয়ে নেওয়ার রূপরেখা তুলে ধরবে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার।

প্রস্তাবিত বাজেটে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সামাজিক সুরক্ষা বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস ও ব্যাগ বিতরণের উদ্যোগ রাখা হয়েছে। এছাড়া জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত শিক্ষার্থীদের পুনর্বাসন ও মানসিক সহায়তার জন্য ২৫০ কোটি টাকার পৃথক প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বুলিং প্রতিরোধে সিসিটিভি ক্যামেরা বৃদ্ধি, বাধ্যতামূলক তৃতীয় ভাষা শিক্ষা, ‘ওয়ান টিচার ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচি এবং শিক্ষকদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রশিক্ষণের মতো নতুন উদ্যোগও বাজেটে স্থান পেয়েছে।

এসব কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য শিক্ষা খাতে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ১ লাখ ৩৬ হাজার ৬৪৬ কোটি টাকা বরাদ্দের পরিকল্পনা করা হয়েছে, যা দেশের মোট জিডিপির ২ শতাংশ। যদিও সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী শিক্ষায় জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দের লক্ষ্য রয়েছে, তবে ধাপে ধাপে সেই লক্ষ্যে পৌঁছানোর কথা জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সরকার শিক্ষা খাতে বড় ধরনের অগ্রগতি আনতে চায়। প্রধানমন্ত্রী শিক্ষা খাত নিয়ে অত্যন্ত আন্তরিক এবং আরও বেশি বরাদ্দের পক্ষে রয়েছেন। তবে একসঙ্গে বড় অঙ্কের বরাদ্দ বাস্তবায়ন করাও একটি বড় চ্যালেঞ্জ। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে শিক্ষায় জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

এদিকে এবারের বাজেটে মাধ্যমিক স্তরে শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধ এবং শ্রেণিকক্ষে ধরে রাখতে সেকেন্ডারি এডুকেশন ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম (এসইডিপি) কর্মসূচির আওতায় উপবৃত্তির জন্য ২ হাজার ৮৩৩ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া সাধারণ বৃত্তি ও মেধাবৃত্তির জন্য আরও ৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ, মুদ্রণ ও বাঁধাইয়ের জন্য ১ হাজার ৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির জন্য ২০০ কোটি টাকা এবং সদ্য জাতীয়করণ হওয়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর বকেয়া পাওনা পর্যায়ক্রমে পরিশোধের লক্ষ্যে ৪৯০ কোটি টাকা বরাদ্দের পরিকল্পনা রয়েছে।

সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পে ২ হাজার ৪৭৮ কোটি টাকা, সরকারি কলেজে বিজ্ঞান শিক্ষার সম্প্রসারণে ৩৮৬ কোটি টাকা এবং মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের জন্য ‘লার্নিং এক্সিলারেশন ইন সেকেন্ডারি এডুকেশন (লেইস)’ প্রকল্পে ১ হাজার ৫৪২ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

কারিকুলাম ও মূল্যায়ন ব্যবস্থা পরিমার্জন এবং শিক্ষা সংস্কার কার্যক্রমের জন্য পৃথকভাবে ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া জেলা সদরের বড় সরকারি বালক ও বালিকা বিদ্যালয়কে আধুনিক স্টেম-ফোকাসড মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজে উন্নীত করার প্রকল্পের আওতায় ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।