চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকায় এক দিন নিখোঁজ থাকার পর এক গৃহশিক্ষকের বস্তাবন্দী মরদেহ ছাত্রের বাড়ি থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল পেয়ে পৌর এলাকার নামোশংকরবাটি চৌকাপাড়ার একটি বাড়ি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত শিক্ষকের নাম মরিয়ম বেগম (৫৫)। তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার উজ্জ্বলপাড়ার মোসাদ্দেক হোসেনের স্ত্রী। তিনি স্থানীয়ভাবে গৃহশিক্ষক হিসেবে পরিচিত ছিলেন এবং গত সোমবার দুপুর থেকে নিখোঁজ ছিলেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস জানান, সোমবার সকালে মরিয়ম বেগম চৌকাপাড়ার মো. রুবেল ও সুমি খাতুনের বাড়িতে তাদের দুই সন্তানকে প্রাইভেট পড়াতে যান। এরপর তিনি আর বাড়ি ফিরে আসেননি। খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে রাতেই মরিয়ম বেগমের এক সন্তান সদর মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
মঙ্গলবার সকালে জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে পুলিশ ওই রুবেল ও সুমি দম্পতির বাড়ি থেকেই মরিয়মের বস্তাবন্দী মরদেহ উদ্ধার করে। এ সময় মরদেহের মাথা ও ঠোঁটে আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে এবং তার কানের দুল ছেঁড়া অবস্থায় ছিলো।
পুলিশ সুপার আরও জানান, ৯৯৯-এ ফোন করে বাড়িতে লাশ থাকার তথ্য দিয়েছিলেন রুবেল নিজেই। তবে তার বাড়ি থেকেই মরদেহটি উদ্ধার হওয়ায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ গৃহকর্তা রুবেল ও তার স্ত্রী সুমি খাতুনকে আটক করেছে।
আটক দম্পতির দেওয়া প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ ধারণা করছে, মরিয়ম বেগমের কানের স্বর্ণের দুলের জন্য এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। রুবেল ও সুমির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ স্থানীয় একজন স্বর্ণকারের কাছ থেকে মরিয়মের ছেঁড়া স্বর্ণের দুল দুটি উদ্ধার করেছে। সোমবারই ওই স্বর্ণকারের কাছে দুল দুটি বিক্রি করেছিলেন সুমি খাতুন। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত হতে পুলিশ ওই স্বর্ণকারকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে।
মিরপুরে কন্যা শিশুর শিরচ্ছেদ, অভিযোগ ধর্ষণেরওমিরপুরে কন্যা শিশুর শিরচ্ছেদ, অভিযোগ ধর্ষণেরও
নিহত মরিয়ম বেগমের ছেলে মারুফ হোসেন বনি জানান, সোমবার রাতেও মাকে খুঁজে না পেয়ে তিনি রুবেলের বাড়িতে গিয়েছিলেন। কিন্তু সে সময় রুবেল ও সুমি তাকে জানিয়েছিলেন যে প্রাইভেট পড়ানো শেষ করে তার মা অনেক আগেই চলে গেছেন।
পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস জানিয়েছেন, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।





