জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) তৃতীয় গেট সংলগ্ন মুক্তমঞ্চের পাশের এলাকা দীর্ঘদিন ধরে ময়লার স্তূপে ছেয়ে থাকায় কার্যত ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। জমে থাকা আবর্জনা থেকে ছড়িয়ে পড়া তীব্র দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও পথচারীরা। ক্যাম্পাসে পর্যাপ্ত বসার স্থান না থাকায় শিক্ষার্থীদের অন্যতম আড্ডা ও অবসর কাটানোর জায়গা মুক্তমঞ্চ হলেও, এর পাশের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এখন সেই স্থানটির স্বাভাবিক ব্যবহারকেও ব্যাহত করছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ময়লা পরিষ্কারের কথা বলা হলেও বাস্তবে দিনের পর দিন আবর্জনা পড়ে থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করছেন শিক্ষার্থীরা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ এই স্থানের আশপাশে রাষ্ট্রবিজ্ঞান, অর্থনীতি, সমাজবিজ্ঞান, সমাজকর্ম, ইসলাম শিক্ষা এবং ইসলামিক ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের একাডেমিক ভবন অবস্থিত। প্রতিদিন এসব বিভাগের শত শত শিক্ষার্থী এই পথ ব্যবহার করে শ্রেণিকক্ষে যাতায়াত করেন। এছাড়া মুক্তমঞ্চে নিয়মিত বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু ময়লার দুর্গন্ধ ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশের কারণে এসব কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ময়লা পরিষ্কারের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের জানানো হলেও অনেক সময় দিনের পর দিন একই স্থানে ময়লার স্তূপ পড়ে থাকে। বৃষ্টি হলে সেখান থেকে দুর্গন্ধ আরও বেড়ে যায় এবং নোংরা পানি আশপাশে ছড়িয়ে পড়ে। এতে পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি স্বাস্থ্যঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে।

রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের এক শিক্ষার্থী ফুয়াদ আরেফিন বলেন, “প্রতিদিন ক্লাসে যেতে এই পথ ব্যবহার করতে হয়। ক্লাস শেষ করে যে এখানে যে বসব কিন্তু ময়লার দুর্গন্ধে এখানে দাড়ানোই কঠিন হয়ে যায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো একটি প্রতিষ্ঠানে এমন পরিবেশ কোনোভাবেই কাম্য নয়।”
আর এক শিক্ষার্থী সাকিব হোসেন আরফি বলেন,” আমরা ক্লাস শেষ করে এখানেই আড্ডা দেই সবসময়। কিন্তু এখানে ময়লা আবর্জনা জমে থাকলে দাড়ানো কঠিন হয়ে যায়। আর ছোট্ট ক্যাম্পাস হওয়ায় আর কোথাও বসার যায়গা থাকেনা। প্রশাসনের উচিত এই বিষয়ে দ্রুত সমাধান করা।”
সমাজকর্ম বিভাগের শিক্ষার্থী মেজবা মিজু বলেন, “ময়লা পরিষ্কারের কথা প্রায়ই শোনা যায়, কিন্তু বাস্তবে দেখা যায় দিনের পর দিন একই জায়গায় ময়লার স্তূপ পড়ে থাকে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সৌন্দর্য যেমন নষ্ট হচ্ছে, তেমনি শিক্ষার্থীদেরও ভোগান্তি বাড়ছে।”
এ বিষয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জকসু) সমাজসেবা সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “আমি এ বিষয়ে অবগত নই। আর এগুলো হলো প্রশাসনের গাফিলতি। আমরা যখন প্রশাসন কে এই বিষয় গুলো নিয়ে কথা বলি তারা কাজ করার আশ্বাস দিলেও ঠিক ভাবে কাজ করেনা।”
সেকশন অফিসার জনাব মোঃ সুমন মিয়া বলেন,”আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে প্রতিদিন ময়লা আবর্জনা পপরিষ্কার করা হয়। ক্যাম্পাসের আশেপাশে স্থানীয় এলাকা থেকে ময়ালার দুর্গন্ধ আসে। মুক্তমঞ্চ এলাকা থেকে প্রতিদিন ময়লা পরিষ্কার করা হয়।
তিনি বলেন,” ক্যাম্পাসে গাছ কাটার পরে যে লাকড়ি গুলো ছিল তা মুক্তমঞ্চ এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ফলে সেখানে তা ময়লার স্তুপে পরিনত হয়েছে। আর সেখান থেকে দুর্গন্ধ আসতেছে। আমরা ময়লা পরিষ্কারের লোকদের সাথে কথা বলেছি তারা আজকে সব ময়লা নিয়ে যাবে। আর সেখানে কোনো ময়লা জমবে না আশা করি।”
শিক্ষার্থীদের দাবি, মুক্তমঞ্চ সংলগ্ন এলাকা নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা, নির্ধারিত স্থানে বর্জ্য ফেলার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং দ্রুত ময়লা অপসারণে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হোক। তাদের মতে, একটি পরিচ্ছন্ন ক্যাম্পাস শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তিও উজ্জ্বল করবে।





