ঢাকা | সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬,২২ আষাঢ় ১৪৩৩

ভুল প্রশ্নে এইচএসসি পরীক্ষা: কেন্দ্রের কমিটি বাতিল, অধ্যক্ষকে শোকজ

জামালপুরের সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজ কেন্দ্রে ২০২৬ সালের এইচএসসির নিয়মিত পরীক্ষার্থীদের ২০২৫ সালের সিলেবাসের আলোকে অনিয়মিত ও মানোন্নয়নের পরীক্ষার্থীদের প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেয়ার ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

শনিবার (০৪ জুলাই) রাতে সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজ কেন্দ্রে অনিয়মিত শিক্ষার্থীদের প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়টি তদন্ত করছে ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডের একটি প্রতিনিধি দল। এ ঘটনা এ নিয়ে কলেজের অধ্যক্ষ ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা প্রফেসর শওকত আলম মীরকে শোকজ করাসহ পরীক্ষা পরিচালনা কমিটি বাতিল করা হয়েছে।

তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটির প্রধান মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড ময়মনসিংহ বিভাগের উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (মাধ্যমিক) মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তদন্ত কমিটির প্রধান ও মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড ময়মনসিংহ বিভাগের উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (মাধ্যমিক) সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘ঘটনার পরপরই আমরা কলেজে গিয়ে বিষয়টি তদন্ত করি। তদন্তে কলেজ কর্তৃপক্ষের যথেষ্ট গাফিলতি লক্ষ্য করা গেছে। এই জন্য কলেজের এইচএসসি পরীক্ষা পরিচালনা কমিটি বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে এবং সেইসঙ্গে অধ্যক্ষ শওকত আলম মীরকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা খুব কম সময়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে জমা দেবো। আর এই ঘটনায় পরীক্ষার্থীরা কোনো সমস্যার মুখোমুখি হবে না। বোর্ড সবসময় পরীক্ষার্থীদের পাশে আছে। কলেজ কর্তৃপক্ষ রিজার্ভ প্রশ্ন থেকে এই প্রশ্নপত্রগুলো বিতরণ করেছে। এই ঘটনায় সম্পূর্ণ দোষী কলেজ কর্তৃপক্ষ।

এ বিষয়ে সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজের অধ্যক্ষ ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা প্রফেসর মো.শওকত আলম মীর শোকজের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘উনারা মৌখিকভাবে বলে গেছেন। আগামীকাল চিঠি পাঠাবেন বলে জানিয়েছেন।’

উল্লেখ্য, সরকারি জাহেদ শফির মহিলা কলেজ ও ইউনাইটেড কলেজের শিক্ষার্থীরা সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজ কেন্দ্রে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজের একাডেমি ভবনে দ্বিতীয় তলায় পরীক্ষা কেন্দ্রের ৪২০২ নম্বর কক্ষে সরকারি জাহিদ শফির মহিলা কলেজের ১০০ জন নিয়মিত শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন।

ওই কক্ষের নিয়মিত শিক্ষার্থীদের ২০২৫ সালের সিলেবাস অনুযায়ী প্রস্তুত করা অনিয়মিত শিক্ষার্থীদের প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেয়া হয়েছে। ওই প্রশ্ন দিয়েই পরীক্ষা সম্পন্ন করেন পরীক্ষার্থীরা। পরীক্ষা শেষ করে অন্য শিক্ষার্থীদের প্রশ্নের সঙ্গে মিলাতে গিয়ে বুঝতে পারেন তাদের ভুল প্রশ্নে পরীক্ষা নেয়া হয়েছে।

সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজের কেন্দ্রে ৯৬২ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। বাংলা দ্বিতীয় পত্রে অনিয়মিত ও মানোন্নয়নের জন্য ৬৯ শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিয়েছেন।