দেশে ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাচ্ছেন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, ‘আজ ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাচ্ছি। যারা এই সংস্কার সংস্কার করে, জনগণকে বিভ্রান্ত করতে বিভিন্ন কথা বলে, তারা কিন্তু নারীদের স্বাধীনতা নিয়ে, নারীদের উন্নয়ন নিয়ে কোনো কথা বলে না। তারা ওষুধ নিয়ে, চিকিৎসা নিয়ে যে কমিশন করা হয়েছিল, সেই কথা বলে না।’
সোমবার (২০ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৬টার দিকে বগুড়া জেলা বিএনপি আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নির্বাচনের সময়ও আমিও বলেছিলাম কীভাবে তারা জনগণকে বিভ্রান্ত করেছে। গুপ্ত বিভ্রান্তকারীরা আবারও এখন বিভ্রান্তের কাজ শুরু করেছে। দুদিন আগে ময়মনসিংহের ওদিকে একটি পারিবারিক, ব্যক্তিগত ঘটনাকে রাজনৈতিক রূপ দিয়ে দেশে অশান্তির চেষ্টা করেছিল। আপনারা সবাই দেখেছেন। এদের সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে।’
‘মুক্তিযুদ্ধের সময় আমরা দেখেছি কীভাবে তারা বিভ্রান্ত করেছিল, ‘৮৬ সালে দেখেছি দেশের মানুষকে কিভাবে বিভ্রান্ত করেছিল, ‘৯৬ সালেও বিভ্রান্ত করেছিল, ২০০৮ সালেও তারা দেশের মানুষকে বিভ্রান্ত করেছিল’, বলেন তিনি।
সংস্কার কমিশনের কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘গণতন্ত্রে মতের পার্থক্য থাকবে। সবকিছুতেই আমি যে এগ্রি (একমত) করব, এমন কোনো কথা নেই। আমরা সেখানে কিছু কিছু বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করেছি। সংস্কার কমিশনের আলোচনার পর আমরা জনগণের কাছে পরিষ্কার করেছি- কোন বিষয়ে আমরা একমত, আর কোন বিষয়ে মতের পার্থক্য আছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘গত ১৭ বছরের আন্দোলনে বিএনপির শত শত নেতা-কর্মী গুম-খুনের শিকার হয়েছেন। বিএনপির অর্ধ কোটি নেতা-কর্মী গায়েবি মামলায় নির্যাতনে শিকার হয়েছেন। আজ এই হাজারও মানুষের সামনে, এই মিডিয়ার সামনে বলতে চাই, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় যে জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেছে, সেই জুলাই সনদের প্রতিটি শব্দ, প্রতিটি অক্ষর আমরা ইনশাআল্লাহ এক এক করে বাস্তবায়ন করব।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কিন্তু বারবার পরিষ্কার করে এই কথা বলে দেওয়ার পরেও আমরা দেখলাম, কিছু রাজনৈতিক দল সংসদে এবং সংসদের বাইরে জনগণকে বিভ্রান্ত করার জন্য কিছু কথাবার্তা বলা শুরু করেছে। অন্তর্বর্তী সরকার ১১টি কমিশন গঠন করেছিল। এর মধ্যে সংবিধান আছে, বিচারের বিষয় আছে, প্রশাসনিক বিষয় আছে, স্বাস্থ্য আছে, নারী আছে, আইনশৃঙ্খলার বিষয় আছে।’
সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড, খাল খনন, বৃক্ষরোপণসহ উন্নয়নমূলক কাজ করতে চায় সরকার। একই সাথে দেশে বিদেশে বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে চায়।
বগুড়া-সিরাজগঞ্জ রেলাইন বাস্তবায়ন করা হবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের কৃষিজাত পণ্য দেশে যেমন থাকবে, বিদেশেও রপ্তানি হবে। আমি এর মধ্যে কাজ শুরু করেছি। আমাদের বিমানবন্দরে কার্গো প্লেন কীভাবে আসতে পারে, আমাদের উৎপাদিত কৃষিজত পণ্য আমরা বিদেশে রপ্তানি করতে পারি। শুধু তাই নয়, বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ দ্রুতই শুরু করব। সেখানে কীভাবে কৃষি, প্রকৌশল, চিকিৎসাসহ সব বিষয় যুক্ত করে কাজ শুরু করা যায়, তা নিয়েও সরকার কাজ করছে। আর এগুলো তখনই বাস্তবায়ন করতে পারব যখন আপনারা আমার হাতকে শক্তিশালী করবেন।
বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি ও বগুড়া সদর আসনের সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাদশার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্থানীয় এমপিসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে জেলার বাগবাড়ীতে খাল খনন, টিকাদান কর্মসূচি উদ্বোধন, ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ, বগুড়া পৌরসভাকে সিটি করপোরেশন ঘোষণাসহ একাধিক কর্মসূচিতে অংশ নেন তারেক রহমান। আজ সন্ধ্যার পরেই ঢাকার পথে রওয়ানা হওয়ার কথা রয়েছে তার।







