ঢাকা | শুক্রবার, ২৮ আগস্ট ২০২৬,১৩ ভাদ্র ১৪৩৩

ইসকন নিষিদ্ধের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিক্ষোভ

দেশজুড়ে সহিংসতা, হত্যা, হুমকি, অপহরণ এবং দেশবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে ইসকন নিষিদ্ধের দাবিতে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে তৌহিদী জনতা। শুক্রবার জুমার নামাজের পর বায়তুল মোকাররমসহ দেশের বিভিন্ন মসজিদ থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল বের করে ইসকন নিষিদ্ধের দাবি জানান তারা।

ইসকন নিষিদ্ধের দাবিতে রাজধানীর মোহাম্মদপুর, মিরপুর, আসাদগেট ও জিগাতলায় বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে। একই দাবিতে দেশের সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন শিক্ষার্থীরা।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়: ইসকন নিষিদ্ধের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীরা। শুক্রবার বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এ বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। মিছিলটি ক্যাম্পাস থেকে শুরু হয়ে বাহাদুর শাহ পার্ক ঘুরে আবার ক্যাম্পাসে ফিরে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। এ সময় শিক্ষার্থীরা স্লোগান দেন— ‘ইসকন তুই জঙ্গি, স্বৈরাচারের সঙ্গী’, ‘জঙ্গিবাদের ঠিকানা, এই বাংলায় হবে না’, ‘দিল্লি না ঢাকা, ঢাকা ঢাকা’ ইত্যাদি।

সমাবেশে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মাসুদ রানা বলেন, “ইসকনের কাজ হওয়া উচিত ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখা। কিন্তু তারা হিন্দুত্ববাদী কার্ড খেলে দেশ অশান্ত করার ষড়যন্ত্র করছে। শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পরও তারা বিশৃঙ্খলা ছড়ানোর চেষ্টা করেছে। বিশ্বের অনেক দেশেই ইসকন নিষিদ্ধ— বাংলাদেশে কেন নয়? ইসকন শুধু মুসলমানদের নয়, হিন্দুদেরও শত্রু— তারা মানবতার শত্রু। তাই অবিলম্বে তাদের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করতে হবে।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়: ইসকন কর্তৃক দেশব্যাপী মুসলিম নারী ধর্ষণ ও ইমাম গুমের প্রতিবাদে ও ইসকন নিষিদ্ধের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) শিক্ষার্থীরা। শুক্রবার জুমা নামাজ শেষে থেকে শিক্ষার্থীরা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনে থেকে শুরু হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, কে আর মার্কেট প্রদক্ষিণ করে জব্বারের মোড়ে এসে শেষে হয়। সেখানে একটি সমাবেশ আয়োজন করে বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীরা। এসময় মিছিলে দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে।

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়: ইসকনের সকল সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, হিন্দুত্ববাদী চক্র কর্তৃক মুসলিম নারীদের সম্ভ্রম নষ্ট, গাজীপুরে আশামনি ধর্ষণ, খতিব মুহিব্বুল্লাহকে অপহরণ এবং ইসকন নিষিদ্ধের দাবীতে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষার্থীরা। শুক্রবার বাদ জুম্মা ইবি কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ প্রাঙ্গণ থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে শিক্ষার্থীরা। পরে মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে আগের স্থানে এসে প্রতিবাদ সমাবেশে মিলিত হয়।

মিছিলে শিক্ষার্থীরা ইসলামের শত্রুরা, হুশিয়ার সাবধান; ইসকনের কালো হাত, ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও; ইসকনের ঠিকানা, এই বাংলায় হবে না; ইসকনের ঠিকানা, এই জমিনে হবে না; দে দে দে কবর দে, ইসকনের কবর দে; ইসকন তুই জঙ্গি, স্বৈরাচারের সঙ্গী,নারায়ে তাকবীর, আল্লাহু আকবার; জিহাদ জিহাদ জিহাদ চাই, জিহাদ করে বাঁচতে চাইসহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়: শহীদ আলিফ হত্যার বিচার দ্রুত কার্যকর, গাজীপুরে মসজিদের খতিবকে গুম করে হত্যাচেষ্টা ও সারাদেশে মুসলিম মেয়েদের টার্গেট করে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের সাথে সংশ্লিষ্ট ইসকনের নিষিদ্ধের দাবিতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে মানববন্ধন হয়েছে। শুক্রবার জুমার নামাজের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের জিরো পয়েন্টে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। ‘চবিয়ান দ্বীনি পরিবার’ নামের একটি সংগঠন এ কর্মসূচির আয়োজন করে।

মানববন্ধনে বক্তরা বলেন, গাজীপুরের কালিয়াকৈরে ১৩ বছরের শিশু আশা মনিকে ধর্ষণ ও মসজিদের খতিবকে গুম করে হত্যাচেষ্টা–এসবের সাথে ইসকনের সম্পৃক্ততার অভিযোগ এসেছে। চট্টগ্রামে এ্যাডভোকেট আলিফকে হত্যা, টঙ্গীতে ইমামকে গুম করে হত্যাচেষ্টা এবং সারাদেশে অসংখ্য মুসলিম মেয়েদের ধর্ষণের ঘটনার আমরা দ্রুত বিচার দাবী করছি।