ঢাকা | মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬,১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

ইচ্ছার বিরুদ্ধে সমকামিতায় বাধ্য করায় ঝিনাইদহে ব্যবসায়ীকে হত্যা

ইচ্ছার বিরুদ্ধে সমকামিতায় বাধ্য করার জেরে ঝিনাইদহের ব্যবসায়ী তোয়াজ উদ্দিনকে (৫৭) হত্যা করা হয়। ঘটনার ২০ দিন পর পুলিশের কাছে স্বীকারোক্তিতে এমনটি জানান আসামি ও মাদ্রাসাছাত্র তানভীর হাসান (১৮)।

আজ মঙ্গলবার ঝিনাইদহের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর মোরশেদ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এর আগে গতকাল সোমবার দুপুরে খুলনার বটিয়াঘাটা থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে হত্যার মূল আসামি তানভীর হাসানকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি যশোর জেলার কোতোয়ালি কামারগন্যা গ্রামের আবুল কালাম আজাদের ছেলে।

পুলিশ জানায়, ৩ সেপ্টেম্বর বিকেলে সদর উপজেলার কেশবপুর গ্রামে তোয়াজ উদ্দিনের ঘর থেকে দুর্গন্ধ বের হলে স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁর স্বজনদের খবর দেন। পরে স্বজনেরা জানালা দিয়ে মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বাড়ির ও ঘরের তালা ভেঙে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় মরদেহ উদ্ধার করে রাত সাড়ে ১১টার দিকে সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

যশোর শহরে যাতায়াতের সূত্র ধরে ২০২২ সালে কোতোয়ালি থানা এলাকার তানভীর হাসানের সঙ্গে পরিচয় হয় তোয়াজ উদ্দিনের। স্ত্রী ও সন্তান না থাকায় তোয়াজের সঙ্গে তানভীরের সমকামিতার সম্পর্ক তৈরি হয় এবং বিভিন্ন সময় তাঁর ঢাকা ও ঝিনাইদহের বাসায় যাতায়াত ছিল তানভীরের।

এর সূত্র ধরে চলতি মাসের ১ তারিখে তাঁরা কেশবপুর গ্রামের বাড়িতে আসেন। ওই রাতে তোয়াজ উদ্দিন জোরপূর্বক তানভীরের সঙ্গে সমকামিতায় জড়ান। এতে তানভীর ক্ষুব্ধ হয়ে পাশে থাকা শিলপাটার পাথর দিয়ে তাঁর মাথায় উপর্যুপরি আঘাত করে হত্যা করে পা বেঁধে ঘরের বাইরে থেকে তালাবদ্ধ করে পালিয়ে যান।

এরপর ৩ তারিখে মরদেহ উদ্ধারের পরদিন নিহত ব্যক্তির ভাই বাদী হয়ে সদর থানায় মামলা করেন। সে থেকে সদর থানা-পুলিশ ও সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিমের সদস্যরা হত্যার তদন্ত শুরু করে। এর ধারাবাহিকতায় গতকাল খুলনা থেকে মূল আসামি তানভীর হাসানকে গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে এ তথ্য জানা যায়। এ বিষয়ে তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

তবে হত্যার মোটিভ অন্যদিকে নেওয়ার জন্য তোয়াজ উদ্দিনের ঘরের দেয়ালে ‘মারার কারণ সে মুহাম্মদ (সা.)-কে গালি দিয়েছে, তাঁর নামে খারাপ কথা বলেছে। আল্লাহু আকবার।’ কথা লিখে রেখেছিলেন তানভীর।