ঢাকা | রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬,২২ ভাদ্র ১৪৩৩

কলেজছাত্র সিফাতের বিদ্যুৎ বিলের দাবিতে মিলল উল্টো চিত্র

বিল নিয়ে সিফাতের অভিযোগ, ভিন্ন চিত্র পল্লী বিদ্যুতের তদন্তে

সম্প্রতি অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের অভিযোগ তুলে সিফাত আব্দুল্লাহ নামে এক যুবক ফেসবুকে প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ ভাষায় একটি ভিডিও প্রকাশ করেন। বিষয়টি নিয়ে সমালোচনার সৃষ্টি হলে তাকে গ্রেপ্তার করে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় কারাগারে পাঠানো হয়। এদিকে বিল বেশি আসার অভিযোগ তদন্ত করে ভিন্ন চিত্র পেয়েছে গাজীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি।

সিফাত তার ভিডিয়োতে দাবি করেন, গত দুই মাসে (জুলাই-আগস্ট) প্রায় ১০ হাজার টাকা বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করতে হয়েছে তাকে। পরে দেওয়া এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘এক মাসের বিদ্যুৎ বিল একটা পুরো পরিবারকে জিম্মি কইরা ফেলবো?’

অভিযোগের পর বিষয়টি খতিয়ে দেখে গাজীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর বোর্ড বাজার জোনাল অফিসের উপমহাব্যবস্থাপক মো. আহসান কবীর। তার স্বাক্ষরিত তদন্ত প্রতিবেদনে সিফাত আব্দুল্লাহর পরিবারের বিদ্যুৎ সংযোগ ও বিলের বিস্তারিত হিসাব তুলে ধরা হয়েছে।

তদন্ত প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, সিফাতের পিতা মো. সেকান্দার আলীর নামে গাজীপুর মহানগরীর ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত দোতলা বাড়িটিতে মোট তিনটি আবাসিক বিদ্যুৎ মিটার রয়েছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, একটি মিটার (মিটার নম্বর: S000433*7) দিয়ে মে মাসে ৪৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারে বিল এসেছে ৩১৭ টাকা। জুনে ৫০ ইউনিটে ৩৪২ টাকা, জুলাইয়ে ১৫০ ইউনিটে ১ হাজার ১৮২ টাকা এবং আগস্টে ৭৫ ইউনিটে ৫১৩ টাকা বিল এসেছে। চার মাসে এই মিটারে মোট ৩২০ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিপরীতে বিল হয়েছে ২ হাজার ৩৫৪ টাকা।

দ্বিতীয় মিটারটিতে (মিটার নম্বর: S000218*5) মে মাসে ২৫০ ইউনিট ব্যবহারে বিল এসেছে ১ হাজার ৮১২ টাকা। জুনে ২০০ ইউনিটে ১ হাজার ৫৮৪ টাকা, জুলাইয়ে ৪০০ ইউনিটে ৩ হাজার ৫৯৪ টাকা এবং আগস্টে ২৮৫ ইউনিটে ২ হাজার ৩৯৭ টাকা বিল আসে। চার মাসে এই মিটারে মোট ১ হাজার ১৩৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিপরীতে বিল হয়েছে ৯ হাজার ৩৮৭ টাকা।

তৃতীয় মিটারটির (মিটার নম্বর: S000424*7) হিসাবে মে মাসে ১২৫ ইউনিটে ৮৪৭ টাকা, জুনে ১২০ ইউনিটে ৬৯০ টাকা, জুলাইয়ে ২০৫ ইউনিটে ১ হাজার ৬৩৩ টাকা এবং আগস্টে ১৭৫ ইউনিটে ১ হাজার ৩৬২ টাকা বিল এসেছে। চার মাসে এই মিটারে মোট ৬২৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিপরীতে বিল হয়েছে ৪ হাজার ৫৩২ টাকা।

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির তদন্ত প্রতিবেদনের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের মে থেকে আগস্ট—এই চার মাসে সিফাতের বাড়ির তিনটি আবাসিক মিটারে মোট ২ হাজার ৮০ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহার হয়েছে। এর বিপরীতে মোট বিল এসেছে ১৬ হাজার ২৭৩ টাকা।

তদন্তের সময় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তারা সিফাতের বাড়িতে গিয়ে বাসায় ব্যবহৃত বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের প্রকৃত তালিকা সংগ্রহ করতে চাইলে পরিবারের পক্ষ থেকে তা দিতে অস্বীকৃতি জানানো হয় বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একপর্যায়ে বাড়ির গেট বন্ধ করে দেওয়া হয় বলেও দাবি করা হয়েছে।

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, সিফাতের বিদ্যুৎ বিল নিয়ে করা অভিযোগ মূল্যায়নের ক্ষেত্রে শুধু একটি মিটারের বিল বিবেচনা করলে পুরো চিত্র পাওয়া যাবে না। কারণ, তার বসবাসের বাড়িটিতে মোট তিনটি আবাসিক বিদ্যুৎ সংযোগ রয়েছে। তাই অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে তিনটি মিটারের ব্যবহার, ইউনিট ও বিলের হিসাব একসঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

তদন্ত প্রতিবেদনে পাওয়া হিসাবের সঙ্গে সিফাতের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যের পার্থক্য থাকায় তার অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের অভিযোগ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে সিফাত আব্দুল্লাহর বক্তব্য এবং তদন্ত প্রতিবেদনের পূর্ণাঙ্গ নথি প্রকাশ্যে এলে বিষয়টি আরও পরিষ্কার হবে।