ঢাকা | সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬,৬ আশ্বিন ১৪৩৩

হাবিপ্রবি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ

দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (হাবিপ্রবি) ক্যাম্পাসে অবস্থিত হাবিপ্রবি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নজরুল ইসলাম মিয়ার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা, অসদাচরণ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগ এনে দিনাজপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ১৯ জন অভিভাবক। তবে অভিযোগগুলোকে মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবি করেছেন প্রধান শিক্ষক।

গত ১২ মে (মঙ্গলবার) ১৯ জন অভিভাবকের স্বাক্ষরসংবলিত অভিযোগপত্রটি দিনাজপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার বরাবর দেওয়া হয়।

অভিযোগপত্রে সরকারি বরাদ্দের টাকা আত্মসাৎ, ভর্তির সময় ৩০০ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায়, স্কুল চলাকালীন কোচিং করানো, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার জন্য প্রতি মাসে ৫০ টাকা করে আদায়, নিজস্ব লাইব্রেরি থেকে বই কিনতে বাধ্য করা, সনদ দেওয়ার নামে অর্থ আদায়, শিশু শ্রেণির জন্য বরাদ্দকৃত টাকা আত্মসাৎ, সরকার প্রদত্ত ল্যাপটপ ও মাল্টিমিডিয়া ক্লাস চালু না করা এবং শিক্ষকদের তা চালু করতে না দেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।

এ ছাড়া ক্লাসে পাঠদান না করিয়ে আগের দিন স্বাক্ষর করে চলে যাওয়া, চারু ও কারুকলা পরীক্ষার দিন শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ঝাড়ু, হারপিক ও সাবান নেওয়া এবং উপবৃত্তি প্রদানে অনিয়ম ও অর্থ দাবির অভিযোগও রয়েছে। পাশাপাশি অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগগুলোর বিষয়ে হাবিপ্রবি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ মিথ্যা ও ভুয়া। প্রাথমিক শাখায় প্রায় ১৪০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। কিন্তু আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে, সেখানে মাত্র ১৯ জন অভিভাবকের স্বাক্ষর রয়েছে। বাকি ১২১ জন অভিভাবক কেন স্বাক্ষর দেননি, সেটিও জানা দরকার। সেখানে কিছু জাল স্বাক্ষরও রয়েছে। কিছু অভিভাবক আমাকে জানিয়েছেন, গাছের চারা দেওয়ার কথা বলে তাদের কাছ থেকে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে।’

তবে অভিযোগপত্রে স্বাক্ষরকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রতিবেদকের পক্ষ থেকে তাদের বক্তব্য নেওয়া হয়। তাঁদের কয়েকজন প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা দাবি করেন। অভিযোগপত্রে হাবিপ্রবির এক অধ্যাপকের নাম ও মোবাইল নম্বরসহ একটি স্বাক্ষরও রয়েছে। এ বিষয়ে ওই অধ্যাপকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘এটি জাল স্বাক্ষর হতে পারে।’

এক অভিভাবক বলেন, ‘আমার দুটি সন্তান সেখানে পড়ে। বেশিরভাগ অভিযোগই সত্য। আপনি এসে যাচাই করতে পারেন। স্কুলের টয়লেট থেকে ছোট ছোট সাপ বের হয়। বাচ্চারা সেখানে কীভাবে টয়লেট করবে? জেলা শিক্ষা অফিসারের কাছেও আমরা গিয়েছিলাম। আমার মেয়ে বৃত্তি পরীক্ষা দিয়েছে। সেই পরীক্ষার জন্য টাকা চাওয়া হয়েছে, কিন্তু কোনো রশিদ দেওয়া হয়নি।’

আরেক অভিভাবক বলেন, ‘আমার ছেলে ওই স্কুলে পড়ে। তার বড় বোনও পাঁচ বছর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়েছে। তখন যে অবস্থা ছিল, এখন তার চেয়েও খারাপ হয়েছে।’

অভিভাবকদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তদন্তকারী কর্মকর্তারা হাবিপ্রবি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে তদন্ত করেছেন বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে মুঠোফোনে সহকারী থানা শিক্ষা অফিসার (এটিইও) সানজিদা শারমিন বলেন, ‘তদন্তের প্রতিবেদন আপনারা অচিরেই পাবেন। আমাদের যে তদন্ত কর্মকর্তারা গিয়েছিলেন, তাঁরা টিওকে প্রতিবেদন দিয়েছেন। টিও হয়তো সামনে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেবেন। ওই স্কুলটি আমার তত্ত্বাবধানে রয়েছে।’

থানা সহকারী শিক্ষা অফিসার (এটিইও) চৈতন্য কুমার রায় বলেন, ‘আমরা সেখানে তদন্ত করেছি এবং তদন্তের প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ প্রতিবেদন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবেন।’

দিনাজপুরের সাবেক জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার শাহজাহান সিদ্দিক বলেন, ‘গত মাসের ২৪ তারিখে দিনাজপুরে আমার শেষ কর্মদিবস ছিল। বর্তমানে আমি রংপুরে কর্মরত আছি। আমি আসার সময় তদন্তটি দিনাজপুরের টিওকে দিয়ে এসেছি। দায়িত্বে থাকা অবস্থায় তদন্ত প্রতিবেদনটি আমি পাইনি। এখন তো আমার আসার ২০ দিন হয়ে গেছে। তাই এ বিষয়ে এখন আমি কিছু বলতে পারছি না। তবে তাঁর বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি শক্তভাবে দেখার জন্য আমি বর্তমান টিও আবুল কালামকে বলেছি।’

এ বিষয়ে দিনাজপুর সদর উপজেলার ইউএনওর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি থানা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আবুল কালামের সঙ্গে কথা বলতে বলেন।

থানা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আবুল কালাম বলেন, ‘এটার ব্যবস্থা নেব। প্রতিবেদনটি আমাদের কাছে এসেছে। দুই-তিন দিন হলো প্রতিবেদনটি জমা হয়েছে। আমরা ব্যবস্থা নিয়ে শিগগিরই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছে পাঠানোর ব্যবস্থা করব।’