চলমান গ্যাস সংকটে ঢাকা কলেজের আবাসিক হলগুলোর ডাইনিংয়ে রান্না ব্যাহত হচ্ছে। গ্যাসের পর্যাপ্ত চাপ না থাকায় বিকল্প হিসেবে লাকড়ি দিয়ে রান্না করছেন হলগুলোর বাবুর্চিরা। এতে রান্নার খরচ বাড়ার পাশাপাশি খাবার পরিবেশনেও দেরি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
আজ রবিবার ( ১৩ সেপ্টেম্বর) কলেজের দক্ষিণ হল, দক্ষিণায়ন হল, আন্তর্জাতিক ও পশ্চিম হলসহ বিভিন্ন আবাসিক হল ঘুরে দেখা গেছে, লাইনে গ্যাসের প্রয়োজনীয় সরবনাহ না থাকায় রান্নাঘরে লাকড়ি জ্বালিয়ে বিকল্প উপায়ে খাবার রান্না করছেন বাবুর্চিরা।
দক্ষিণায়ন হলের এক আবাসিক শিক্ষার্থী সংকট বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, “মাঝখানে কিছুদিন ডাইনিং বন্ধও ছিল। দক্ষিণায়ন হলে প্রায় সাতদিনের মতো বন্ধ ছিল। তাঁরা বলে দিয়েছিলেন যে এটা গ্যাস সংকটের কারণে বন্ধ রাখা হয়েছে।”
দক্ষিণ হলের ম্যানেজার আনোয়ার রহমান বলেন, আমরা লাকড়ি দিয়ে রান্নার কাজ করছি। বর্তমানে গ্যাস নেই বললেই চলে। বিকাল চারটার দিকে গ্যাস চলে যায়। গ্যাস না থাকার কারণে লাকড়ি দিয়ে খাবার রান্না করতে দেরি হয়ে যায়, খাবারের সময় হয়ে যায় কিন্তু খাবার রান্না হয় না। লাকড়ি দিয়ে রান্না করলে খরচও একটু বেশি পড়ে। বর্তমানে কলেজের কিছু লাকড়ি দিয়ে রান্না করছি। এই লাকড়ি শেষ হয়ে গেলে বাইরে থেকে কিনে আনা লাগবে। তখন খরচ আরো বেশি পড়বে।
পশ্চিম হলের ম্যানেজার প্রতাব বিশ্বাস বলেন, গ্যাস না থাকলে ঠিকমতো রান্না হয় না। রান্না করতে অনেক কষ্ট হয়ে যায়। বৃষ্টির কারণে লাকড়ি ভিজে যাওয়ায় সেগুলো দিয়ে রান্না করতে পারিনি। জামা- কাপড় দিয়ে রান্না করতে হয়েছে। গত দুইদিন আমাদের পুরোনো দুইটি খাট ছিলো সেগুলো দিয়ে রান্না করেছি।
ইন্টারন্যাশনাল হলের ম্যানেজার সফিকুল বলেন , গ্যাস একেবারেই নেই। প্রতিদিন রান্না করতে আটশত টাকার লাকড়ি লাগে।লাকড়ি জোগাড় করে আনতে অনেক কষ্ট হয়।
এ প্রসঙ্গে ঢাকা কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক আনোয়ার মাহমুদ বলেন, গ্যাস সংকট শুধু ঢাকা কলেজের একক কোনো সমস্যা নয়, বরং পুরো ঢাকা শহরের সংকট । শিক্ষার্থীরা যেন ডাইনিং ছেড়ে বাইরে গিয়ে চড়া দামে বা অনিরাপদ খাবার খেতে বাধ্য না হয়, সে লক্ষ্যে হলের ডাইনিং কার্যক্রম সচল রাখাকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
বিকল্প জ্বালানি এবং ডাইনিং বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা প্রসঙ্গে তিনি বলেন , আপাতত লাকড়ির সংকট হওয়ার সম্ভাবনা নেই। সাম্প্রতিক ঝড়-তুফানে ক্যাম্পাস প্রাঙ্গণে ভেঙে পড়া গাছের ডালপালা কেটে সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছে, পাশাপাশি হলে চলমান সংস্কার কাজ থেকে প্রাপ্ত কাঠও ডাইনিংয়ের জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। ডাইনিংগুলোতে প্রয়োজনীয় লাকড়ির পর্যাপ্ত মজুত থাকায় কার্যক্রম বন্ধ হওয়ার কোনো ঝুঁকি আপাতত নেই। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, অক্টোবর মাসের পূজার ছুটির পূর্ব পর্যন্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকবে।







