ভারতের পশ্চিমবঙ্গ সরকার রাজ্যের ইসলামি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো পর্যালোচনার অংশ হিসেবে ২৫২টি মাদ্রাসা বন্ধের নোটিশ দিয়েছে। যাচাই প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপে আরও ১০০টি মাদ্রাসাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেয়া হয়েছে।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক খবরে এ তথ্য জানা যায়।
এক প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে এনডিটিভি জানায়, বন্ধের মুখে থাকা ২৫২টি মাদ্রাসার বেশিরভাগই খারিজি মতের। এর মধ্যে মালদায় অন্তত ৪৪টি, উত্তর দিনাজপুরে ৩৭টি, দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ৩২টি এবং নদিয়া ও মুর্শিদাবাদে ২৫টি করে মাদ্রাসা রয়েছে।
সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডু সতর্ক করে বলেছেন, কারণ দর্শানোর নোটিশ পাওয়া মাদ্রাসাগুলোকে বৈধ অনুমোদন দেখাতে হবে। তা না হলে সেগুলো বন্ধ করে দেয়া হবে।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জুন মাসে রাজ্যজুড়ে জরিপের নির্দেশ দিয়েছিলেন। এর উদ্দেশ্য ছিল পশ্চিমবঙ্গে কতগুলো স্বীকৃত ও অস্বীকৃত মাদ্রাসা রয়েছে, তা নির্ধারণ করা।
এরপর সংখ্যালঘু বিষয়ক ও মাদ্রাসা শিক্ষা দপ্তর কলকাতা এবং আরও ২২টি জেলায় জরিপ চালায়। এতে মাদ্রাসাগুলোর পরিচালন ব্যবস্থা, শিক্ষার্থী সংগঠনের নিবন্ধন, অর্থের উৎস এবং নিবন্ধনের অবস্থা পরীক্ষা করা হয়।
‘জরিপের ফলাফলের ভিত্তিতে প্রথম ধাপে ২৫২টি মাদ্রাসা বন্ধের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এছাড়া আরও ১০০টি মাদ্রাসায় গুরুতর অনিয়ম পাওয়ায় তাদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান প্রমাণ বা বৈধ অনুমোদন দেখাতে ব্যর্থ হলে সেগুলো বন্ধ করতে ব্যবস্থা নেয়া হবে’ বলেন টুডু।
তিনি জানান, বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে বৈধ অনুমোদন নিয়ে ২ হাজার ১৩২টি মাদ্রাসা পরিচালিত হচ্ছে। আর অনুমোদনহীন মাদ্রাসার সংখ্যা ২ হাজার ৩৯৬টি।
মাদ্রাসাগুলোর বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপকে ঘিরে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য শুরু হয়েছে।
বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য সরকারের এই পদক্ষেপকে সমর্থন করেছেন। তিনি সীমান্তবর্তী এলাকায় ‘উগ্রপন্থার’ কর্মকাণ্ড বাড়ার কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘মাদ্রাসা শিক্ষার আড়ালে দেশবিরোধী কর্মকাণ্ড বন্ধ করা সরকারের দায়িত্ব। তাই সরকার এই পদক্ষেপ নিয়েছে।’
বঙ্গের মন্ত্রী ও বিজেপির জ্যেষ্ঠ নেতা অগ্নিমিত্রা পলও মাদ্রাসার বিরুদ্ধে নেয়া পদক্ষেপকে সঠিক বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি দাবি করেন, এসব প্রতিষ্ঠান ‘দেশবিরোধী শিক্ষা ছড়াতো’। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশভিত্তিক সন্ত্রাসীরা এসব অনুমোদনহীন মাদ্রাসায় আশ্রয় নিত। আমরা শিক্ষাব্যবস্থাকে নিয়মের মধ্যে আনতে চাই।’
তৃণমূলের বিধায়ক কুণাল ঘোষ বলেন, মাদ্রাসা মূলত একটি শিক্ষাব্যবস্থা। মাদ্রাসার বিরুদ্ধে ‘সন্ত্রাসী’ তকমা দেয়া ঠিক নয়।





