চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় কয়েকদিন ধরে চলমান ভারী বর্ষণে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার সময়সূচি বেশ বিপর্যয়ের মুখে পড়ছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পরীক্ষার্থীদের লেখাপড়ায়ও চরম বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। ইতোমধ্যে বৈরী আবহাওয়া এবং বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় আজ শনিবার অনুষ্ঠেয় চট্টগ্রাম বিভাগের পাঁচ জেলায় চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড এবং মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।
গত ২ জুলাই থেকে শুরু হয়েছে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে এ নিয়ে চট্টগ্রাম অঞ্চলের দুটি পরীক্ষা স্থগিত হলো। এতে পরবর্তী পরীক্ষাগুলোও যথাসময়ে হবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
শুক্রবার বিকেলে বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামানের সই করা জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে পরীক্ষা স্থগিতের এ তথ্য জানানো হয়। এর আগে দুর্যোগময় পরিস্থিতির কারণে ওই পাঁচ জেলায় গত বুধবারের নির্ধারিত পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছিল।
আন্তঃশিক্ষা বোর্ডের আদেশে বলা হয়েছে, চট্টগ্রাম অঞ্চলের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি বিবেচনায় এবং চট্টগ্রাম বিভাগের সব জেলা প্রশাসকের (ডিসি) প্রতিবেদন ও চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে শনিবারের পরীক্ষা স্থগিতের এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এদিন চট্টগ্রাম বোর্ডে এইচএসসির ‘তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি’ (আইসিটি), মাদরাসার ইংরেজি প্রথমপত্র এবং কারিগরি বোর্ডে হিসাব বিজ্ঞান নীতি ও প্রয়োগ-২ বিষয়ের পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল।
এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানিয়ে বলা হয়, স্থগিত হওয়া পরীক্ষাগুলোর পরিবর্তিত সময়সূচি পরবর্তী সময়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডগুলোর মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হবে।
আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি জানায়, চট্টগ্রাম বোর্ডের অধীন জেলাগুলো ছাড়া দেশের অন্য সব সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদরাসা বোর্ড ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন জেলার শনিবার নির্ধারিত সব পরীক্ষা যথারীতি অনুষ্ঠিত হবে।
এর আগে শুক্রবার চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের আদেশে বলা হয়েছে, আবহাওয়া ও বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ঘটায় বোর্ডের আওতাধীন পাঁচ জেলা চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবান পার্বত্য জেলার ১১ জুলাইয়ের (শনিবার) তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (বিষয় কোড-২৭৫) পরীক্ষা স্থগিত করা হলো। এছাড়া বিদ্যুৎ না থাকায় সব কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মাইকিং করে এলাকায় বিষয়টি জানিয়ে দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয় আদেশে।
জানা গেছে, ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রাম বিভাগের বিস্তীর্ণ এলাকার বাড়িঘর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা পানিতে তলিয়ে গেছে। অনেকে আশ্রয় নিয়েছেন সাইক্লোন সেন্টারে। এ অবস্থায় অনেক এইচএসসি পরীক্ষার্থীর পড়াশোনাও বন্ধ হয়ে গেছে। এতে পরীক্ষার প্রস্তুতিমূলক পড়ালেখায় চরম বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে।
এদিকে সিলেট বিভাগেও বন্যা পরিস্থিতির অবনতির খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া ভারী বৃষ্টির কারণে উত্তরের চার জেলায় বন্যার শঙ্কার কথা জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। সেখানেও চলমান এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা নির্বিঘ্নে হওয়া নিয়ে শঙ্কা রয়েছে।
এদিকে বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা অভিযোগ ও পরিস্থিতি নিয়ে শুক্রবার রাত ৯টা পর্যন্ত বৈঠক করেন আন্তঃশিক্ষা বোর্ড কর্মকর্তারা।





