ঢাকা | শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬,২৭ আষাঢ় ১৪৩৩

প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফল ফাঁসের নজিরবিহীন ঘটনা, তদন্তে কমিটি

প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা বাংলাদেশে নতুন নয়। বিভিন্ন সময়ে নিয়োগ পরীক্ষা, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা কিংবা পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে তুমুল বিতর্ক হয়েছে। কিন্তু আনুষ্ঠানিক ঘোষণার আগেই সরকারি ওয়েবসাইটে পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় কার্যত নজিরবিহীন। সেই নজিরবিহীন ঘটনাই ঘটেছে ২০২৫ সালের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশকে ঘিরে।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। এ ছাড়া এ ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পৃথক দুটি আদেশ থেকে এ তথ্য জানা গেছে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের এক আদেশে বলা হয়, প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৫–এর ফলাফল ৮ জুলাই প্রস্তুত করা হয়। প্রস্তুত করা ফলাফল ওয়েব পোর্টালে আপলোড করতে প্রয়োজনীয় লিংক তৈরির জন্য অধিদপ্তরের সহকারী মেইনটেন্যান্স মো. মেহতাব কায়েসকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। ফলাফল যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে প্রকাশের আগে তা ওয়েব পোর্টালে আপলোড না করার জন্য তাঁকে নির্দেশনা দেওয়া হয়। কিন্তু ৯ জুলাই (আজ বৃহস্পতিবার) সকাল ১০টায় ঢাকা বিভাগের ৯টি জেলার ফলাফল ওই লিংকগুলোতে আপলোড করা হয়। লিংকগুলো থেকে সাধারণ ব্যবহারকারীরা ফলাফল আপলোড করেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করেন।

আদেশে আরও বলা হয়, লাইভ সার্ভারে লিংক তৈরি এবং আপলোড করার ক্ষেত্রে যে ধরনের নিরাপত্তা প্রটৌকল মেনে চলা উচিত ছিল, তা অনুসরণ করা হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে মেহতাব কায়েস নবম গ্রেডের কর্মকর্তা হওয়ায় তাঁর বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে চিঠি দিয়েছে অধিদপ্তর।

এদিকে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের আরেক আদেশে কর্তৃপক্ষের বিনা অনুমতিতে ফল প্রকাশের ঘটনার তদন্ত করে বিস্তারিত প্রতিবেদন দিতে অধিদপ্তরের পরিচালককে (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

এ বছর মোট ৮২ হাজার ৫০০ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি পাবে। এর মধ্যে ৮০ শতাংশ পাবে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। বাকি ২০ শতাংশ পাবে বেসরকারি বা কিন্ডারগার্টেনের প্রার্থীরা। বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের ‘ট্যালেন্টপুল’ ও ‘সাধারণ গ্রেড’—এই দুই ভাগে আর্থিক সুবিধা দেওয়া হয়।

এ বছর মোট পরীক্ষার্থী ছিল ৬ লাখ ৪০ হাজারের কিছু বেশি। তার মধ্যে সাড়ে পাঁচ লাখ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এবং ৯০ হাজার বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের (কিন্ডারগার্টেন) শিক্ষার্থী।