ঢাকা | শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬,২৭ আষাঢ় ১৪৩৩

ডিবি পুলিশ পরিচয়ে ফোন, তিন শিক্ষককে প্রতারণা

‘আপনার ছেলে ডিবির হাতে। মাদকসহ আটক হয়েছে। মামলা এড়াতে চাইলে এখনই বিকাশে টাকা পাঠান’— মোবাইল ফোনে এমন কল পেয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ অনেকে। সন্তানের বিপদের কথা শুনে যাচাই-বাছাই না করেই একের পর এক বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে টাকা পাঠান তারা। পরে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারেন, পুরো ঘটনাই ছিল সুপরিকল্পিত প্রতারণা।

ডিবি পুলিশের কর্মকর্তা পরিচয়ে মোবাইলে কল করে অন্তত তিনজন শিক্ষকের কাছ থেকে প্রায় দুই লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে ওই সংঘবদ্ধ চক্র। একই কৌশলে আরও ১৩ থেকে ১৪ জন শিক্ষককে কল করা হলেও তাদের অনেকে সতর্ক থাকায় প্রতারণার শিকার হননি।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সন্ধ্যায় ১৫ থেকে ২০ জন ভুক্তভোগী শিক্ষক ও শিক্ষক প্রতিনিধি ঘোড়াঘাট থানায় গিয়ে এ ব্যাপারে পৃথক লিখিত অভিযোগ দেন।

অভিযোগে জানা যায়, প্রতারকরা নিজেদের ডিবি পুলিশের কর্মকর্তা পরিচয় দেন। শিক্ষকদের সন্তানদের মাদকসহ আটক করা হয়েছে। মামলা থেকে রক্ষা করতে হলে দ্রুত বিকাশ বা নগদের মাধ্যমে টাকা পাঠাতে হবে, অন্যথায় তাদের কারাগারে পাঠানো হবে। সন্তানদের নাম-পরিচয় উল্লেখ করে বিশ্বাস অর্জনের পর শুরু হয় টাকার চাপ।

প্রতারকদের কথায় বিভ্রান্ত হয়ে প্রধান শিক্ষক মাহবুবুর রহমান ধাপে ধাপে বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে ৮৬ হাজার ৮০০ টাকা পাঠান। নারায়ণপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রীতি রাণী সরকার পাঠান ৬৭ হাজার টাকা এবং ওহিউড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মাহাফুজা বেগম পাঠান ৪১ হাজার টাকা। পরে তারা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পারেন। এরপর প্রতারকদের ব্যবহৃত নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করলে মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়।

এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন প্রধান শিক্ষক মাহবুবুর রহমান, শাহিনা বেগম, নাজমুননাহার ও শাহজাহান আলী।

এছাড়া আরও কয়েকজন শিক্ষক জানান, একই কৌশলে তাদের কাছ থেকেও ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা দাবি করা হয়েছিল। তবে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ায় তারা কোনো টাকা পাঠাননি।

প্রতারণার শিকার প্রধান শিক্ষক প্রীতি রাণী সরকার বলেন, ‘আমার ছেলে ঢাকায় পড়াশোনা করে। মোবাইল কলে বলা হয়, তাকে ২১ বোতল ফেনসিডিলসহ আটক করে মারধর করা হয়েছে। ছেলেকে ছাড়িয়ে নিতে হবে বলে কয়েক দফায় বিকাশে টাকা পাঠাই। পরে পরিবারের সঙ্গে কথা বলে বুঝতে পারি, এটি প্রতারণা।’

উপজেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতির সভাপতি মুশফিকুর রহমান বলেন, ‘উপজেলার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের টার্গেট করে পরিকল্পিতভাবে এই প্রতারণা চালানো হয়েছে। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং থানায় জানানো হয়েছে। দ্রুত প্রতারকদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।’

ঘোড়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘ভুক্তভোগীদের লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ধরনের ফোন পেলে আতঙ্কিত না হয়ে আগে পরিবারের সদস্য ও সংশ্লিষ্ট থানার সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে।’