ঢাকা | সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬,১ আষাঢ় ১৪৩৩

পশ্চিমবঙ্গের নতুন দল এনসিপিআই বাংলাদেশে তৈরি, দাবি কংগ্রেস নেতার

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া (এনসিপিআই)। এবার নতুন দলটিকে বাংলাদেশে তৈরি বললেন কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী। মূলত, ত্রিপুরা কেন্দ্রিক এই রাজনৈতিক দলটির অস্তিত্বের কথা এতদিন মাত্র হাতে গোনা কয়েকজন মানুষই জানত। কিন্তু রোববার তৃণমূলের ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদ এই দলে যোগ দেওয়ায় রীতিমত উত্তাল হয়ে উঠেছে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি।

এনসিপিআই-এর ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট করে দাবি করা হয়, এই মুহূর্তে পশ্চিমবঙ্গে তাদের ২০টি আসন রয়েছে। বিজেপির ১২টি, তৃণমূল কংগ্রেসের আটটি, কংগ্রেসের একটি আসন রয়েছে। অর্থাৎ, পশ্চিমবঙ্গের মধ্যে তারাই সর্ববৃহৎ সংসদীয় রাজনৈতিক দল। মাত্র কয়েক বছর আগেই এই রাজনৈতিক দলটির যাত্রা শুরু হয়েছিল।

এরপরই রাজনৈতিক দলটির উৎপত্তিস্থল নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিলেন বহরমপুরের প্রাক্তন কংগ্রেস সাংসদ অধীর চৌধুরী। সোমবার (১৫ জুন) বহরমপুরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কংগ্রেস নেতা দাবি করে বসেন, এনসিপিআই দলটির জন্ম আসলে বাংলাদেশে।

অধীর বলেন, বিধানসভা নির্বাচনী প্রচারে পশ্চিমবঙ্গে এসে দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বারে বারে বাংলাদেশ থেকে অবৈধ অনুপ্রবেশ ইস্যুতে সরব হয়েছেন। তবে এখন দেখছি বাংলাদেশ থেকে শুধু মানুষ আসেনি, দলও অনুপ্রবেশ করে চলে এসেছে।

তিনি বলেন, এই দলের জন্ম বাংলাদেশে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আন্দোলনের সময়। এখন সেই দলই দিল্লি পৌঁছে গেল। অমিত শাহের সাবধান হওয়া উচিত। কারণ, শুধু মানুষ নয় রাজনৈতিক দলও অনুপ্রবেশ করে এই দেশে ঢুকে পড়ছে। তবে ওই রাজনৈতিক দলকে আমি ন্যাশনাল সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া বলতে রাজি নই। সিটিজেন্সের পরিবর্তে চিটিজেন্স ব্যবহার করা উচিত। তারা মানুষকে চিট করেছে। এরপরই অধীর মুর্শিদাবাদ জেলার তিন তৃণমূল সাংসদের দল পরিবর্তন নিয়ে সরব হন। তিনি বলেন, ইউসুফ পাঠান এখানে টাকার বিনিময়ে ভোট নামক ইভেন্টে খেলতে এসেছিল। তার চুক্তি শেষ। ও কেন এখন রিস্ক নেবে? তৃণমূল দলের সঙ্গে ওর চুক্তি ছিল, টাকা নাও আর আমাদের হয়ে ভোট করো। টাকা নিয়ে খেলার মত রাজনীতিও খেলা, বিজেপিতে চলে যাওয়াটাও এক ধরনের খেলা। তিনি আরও বলেন, মুর্শিদাবাদ জেলা থেকে যারা ওই রাজনৈতিক দলে যোগ দিয়েছেন তারা জানেন না আগামী তিন বছর পর তৃণমূল থাকবে কিনা। বা থাকলেও সেখানে তারা টিকিট পাবেন কিনা। তাই আগামী ৩ বছর আরামে থাকা খাওয়ার জন্যই তারা ওই দলে যোগ দিয়েছেন। ৩ বছর পর যদি বিজেপির দয়া হয় তাহলে আবার তারা টিকিট পাবেন। তাই এখন থেকে বিজেপির পায়ে তেল মালিশ করা শুরু করেছেন। টাকা, প্রলোভন, ভয় এবং সরকারি দলের ক্ষমতা ভোগ করার জন্য কিছু লোক দল বদল করে বাংলার নাম খারাপ করছেন।