ঢাকা | সোমবার, ২৫ মে ২০২৬,১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

আদালতে রামিসা হত্যা মামলার চার্জশিট দাখিল

রাজধানীর পল্লবীতে ৮ বছর বয়সী স্কুলছাত্রী রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় করা মামলায় সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) আদালতে দাখিল করেছে পুলিশ।

রোববার (২৪ মে) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপপরিদর্শক মো. ওহিদুজ্জামান এই চার্জশিট দাখিল করেন।

বিষয়টি কালবেলাকে নিশ্চিত করেছেন ডিএমপির প্রসিকিউশন বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মিয়া মোহাম্মদ আশিস বিন হাছাস।

এর আগে রামিসা ধর্ষণ-হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) অহিদুজ্জামান ভূঁইয়া নিপুণ নিহতের ডিএনএ পরীক্ষার প্রক্রিয়া শেষে চার্জশিট প্রস্তুতের কাজ চলছে বলে জানান।

তার আগে গতকাল শনিবার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিএনএ, ময়নাতদন্ত ও ভিসেরা রিপোর্ট হাতে পান। সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান এ বিষয়ে জানান, সব ফরেনসিক রিপোর্ট ইতোমধ্যে তদন্ত কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

এরও আগে গত ২১ মে রাতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রামিসার বাসা পরিদর্শনের পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের বলেন, এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় রোববারের মধ্যে চার্জশিট আদালতে দাখিল করা হবে।

শনিবার (২৩ মে) ঈদের আগেই চার্জশিট দাখিল করা সম্ভব হলে ঈদের পরপরই বিচারিক কার্যক্রম শুরু করা যাবে বলে জানান আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। একই সঙ্গে রামিসার মামলার পাশাপাশি অন্যান্য ধর্ষণ মামলাও সরকার নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানান তিনি।ৎ

গত মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে পল্লবীর একটি বাসা থেকে রামিসা আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় দেশজুড়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। মামলার প্রধান আসামি জাকির হোসেন ওরফে সোহেল রানাকে ২০ মে নারায়ণগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনায়েদের আদালত তার জবানবন্দি রেকর্ড করে অভিযুক্তকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অভিযুক্ত ব্যক্তি কৌশলে শিশু রামিসাকে একটি কক্ষে নিয়ে গিয়ে অপরাধ সংঘটিত করেন। ঘটনার পর তিনি আলামত নষ্টের চেষ্টা করে পালিয়ে যান।