যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার (ইউএসএফ) বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নাহিদা বৃষ্টি ও জামিল লিমনের নিহতের ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে বিশ্ববিদ্যালয় জুড়ে। এই ঘটনায় এক শোকবার্তায় গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট।
প্রেসিডেন্ট শোক বার্তায় বলেন, নাহিদার মৃত্যুর খবর আমাদের জন্য এক অপূরণীয় শোক নিয়ে এসেছে। নাহিদা ও জামিল লিমল ছিলেন আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুকরণীয় শিক্ষার্থী। তারা তাদের মেধা ও প্রাণচাঞ্চল্য দিয়ে ক্যাম্পাসে এক সুন্দর কমিউনিটি গড়ে তুলেছিলেন। তাদের মৃত্যুর খবর আমাদের জন্য অপূরণীয় শোক নিয়ে এসেছে। তাদের অবদান বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সবসময় মনে রাখবে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, তাদের সম্মানার্থে ক্যাম্পাসের স্মৃতিস্তম্ভে নাম খোদাই করা হবে এবং প্রতিবছর অনুষ্ঠিত বিশেষ স্মরণ সভায় তাদের স্মরণ করা হবে।
এরই মধ্যে নাহিদা ও জামিলের স্মরণে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিসেন্ট হিল এলাকায় এক বিশাল শোকসভা ও মোমবাতি প্রজ্বলন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এতে শত শত শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মকর্তা উপস্থিত হয়ে তাদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
এমনকি নিহত দুই শিক্ষার্থীর পরিবারের পাশে দাঁড়াতে একটি ব্যক্তিগত তহবিল গঠন করা হয়েছে। এছাড়া জামিল ও নাহিদার মরদেহ দেশে পাঠানো এবং অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতায় সহায়তার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশি দূতাবাস ও কনস্যুলেট জেনারেলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
তবে এই ট্র্যাজেডিকে ভিন্নভাবে দেখছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। প্রেসিডেন্ট বার্তায় উল্লেখ করেন, দুটি তরুণ প্রাণের এমন অকাল প্রয়াণ আমাদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ করছে। আমরা অফ-ক্যাম্পাস আবাসনগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত নিয়েছি, যাতে শিক্ষার্থীরা যেখানেই থাকুক না কেন, তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা যায়।
জানা যায়, শোকাহত শিক্ষার্থীদের জন্য ক্যাম্পাসে ২৪ ঘণ্টা কাউন্সিলিং ও মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তার ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে।
এর আগে, গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। বৃষ্টির মৃত্যুর খবরও নিশ্চিত করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় হিশাম সালেহ আবুঘরবেহ (২৬) নামে সন্দেহভাজন একজনকে গ্রেপ্তার করেছে স্থানীয় পুলিশ। তিনি নিহত জামিলের রুমমেট।
গ্রেপ্তারকৃত হিশামের বিরুদ্ধে ছয়টি সুনির্দিষ্ট ও গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে— পারিবারিক সহিংসতা, সাধারণ প্রহার, কাউকে অন্যায়ভাবে আটকে রাখা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করার চেষ্টা, কারও মৃত্যু সংবাদ পুলিশকে না জানানো এবং বেআইনিভাবে মৃতদেহ সরানো বা নাড়াচাড়া করা





