ঢাকা | মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬,১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

শিক্ষকদের ‘গ্রুপিংয়ে’ পরীক্ষার ৬ ঘণ্টা আগে প্রবেশপত্র পায় শিক্ষার্থীরা

শিক্ষকদের অভ্যন্তরীণ কোন্দল আর চরম অবহেলার কারণে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছিল এসএসসি পরীক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ। পরীক্ষার আগের দিন পর্যন্ত প্রবেশপত্র হাতে না পেয়ে দিশেহারা হয়ে পড়ে শিক্ষার্থীরা। অবশেষে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর এবং আন্দোলনের মুখে পরীক্ষা শুরু হওয়ার মাত্র ৬ ঘণ্টা আগে ভোরে প্রবেশপত্র হাতে পায় তারা।

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দুপুরে গাইবান্ধার পলাশবাড়ীর জুনদহ উচ্চ বিদ্যালয়ে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা পরিদর্শনে গেলে অভিভাবকদের তোপের মুখে পড়েন। অভিযোগ উঠেছে, বিদ্যালয়ের অফিস সহকারী নাঈম মিয়া ও কয়েকজন শিক্ষকের কাছে শিক্ষার্থীরা যথাসময়ে রেজিস্ট্রেশন ও ফরম পূরণের ফি জমা দিলেও তা বোর্ড কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছানো হয়নি। এ নিয়ে অফিস সহকারী ও শিক্ষকরা একে অপরকে দোষারোপ করছেন।

অভিভাবকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘কয়েকদিন ধরে ছাত্রছাত্রীরা প্রবেশপত্রের জন্য মাস্টারের পিছে পিছে ঘুরছে। কারো ফরম পূরণ হয়েছে, কারো হয়নি। মাস্টাররা একেকজন একেক কথা বলেছেন। গত বছরও এই স্কুল থেকে পরীক্ষার আগের রাতে ছাত্রদের প্রবেশপত্র নিতে হয়েছে।’

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কামরুল আহসান সোহেল কয়েক বছর ধরে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকলেও শিক্ষকদের হাজিরা খাতা নিজের বাড়িতে সংরক্ষণ করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এমনকি অসুস্থতার কোনো ছুটি না নিয়ে তিনি দীর্ঘকাল বিদ্যালয়ে আসছেন না। তার অনুসারী শিক্ষকরাও নিয়মিত বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকেন বলে জানা গেছে। অভিভাবকদের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত। প্রধান শিক্ষকের অনুসারী শিক্ষকরাও স্কুল ফাঁকি দিয়ে বেতন নিচ্ছেন।

অন্যদিকে, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের অনুসারী বলে পরিচিত অফিস সহকারী সোহেল মিয়া। অভিভাবকদের অভিযোগ, শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন ও ফরম পূরণের জন্য নির্ধারিত সময়ে সোহেলের হাতে টাকা পরিশোধ করা হলেও তিনি টাকা জমা দেননি। অভিযোগ অস্বীকার করে সোহেল বলেন, ‘বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রাজু, কাওছার, কাকলীসহ অনেকে ছাত্রদের কাছ থেকে টাকা তুলেছেন। শিক্ষকরা অফিস সহকারীর দায়িত্ব নেয়ায় সমন্বয়হীনতার কারণে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।’

কেবল পলাশবাড়ী নয়, ফুলছড়ি উপজেলার কঞ্চিপাড়া এমএইউ একাডেমিতে ১৫০ জন পরীক্ষার্থীর প্রবেশপত্রে ভুল তথ্য আসায় তারা বিপাকে পড়ে। পরে তা সংশোধন করা হয়। অন্যদিকে, পলাশবাড়ীর গিরিধারীপুর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের ২৯ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষার আগের রাতে সড়ক অবরোধ করার পর তাদের প্রবেশপত্র হাতে পায়।

পুরো বিষয়টি জানার পর জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আতাউর রহমান তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘কতজন টাকা জমা দিয়েছে, কেন ফরম ফিলাপ হলো না এবং বাকি টাকা কার কাছে আছে; সবকিছুর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে। দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এক দিনের মধ্যে প্রধান শিক্ষকের কাছে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। জবাব হাতে আসার পরপরই নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’