ঢাকা | সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬,১৫ আষাঢ় ১৪৩৩

বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে মব ভায়োলেন্স বন্ধ ও শৃঙ্খলা রক্ষায় শিক্ষার্থীদের স্মারকলিপি

রাজশাহীর বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে সকল প্রকার মব ভায়োলেন্স বন্ধ, ১৬ ফেব্রুয়ারির হট্টগোলকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ক্যাম্পাসে শৃঙ্খলা বজায় রাখার দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে স্মারকলিপি প্রদান করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান বরাবর পেশ করা এই স্মারকলিপিতে শিক্ষার্থীরা বর্তমান পরিস্থিতির ওপর গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

স্মারকলিপিতে শিক্ষার্থীরা উল্লেখ করেন, ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে দেশের বিভিন্ন ক্যাম্পাসে ব্যক্তিগত স্বার্থ, প্রতিহিংসা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণার মাধ্যমে ‘ফ্যাসিস্টের দোসর’ ট্যাগিং দিয়ে সম্মানিত শিক্ষকদের সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করার নজির দেখা যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসেও অনুরূপ প্রবণতার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। সম্প্রতি বহিষ্কৃত কিছু শিক্ষার্থী নিজেদের স্বার্থে এবং তাদের প্ররোচনায় কতিপয় বর্তমান শিক্ষার্থীর সহায়তায় পরিকল্পিতভাবে বর্তমান উপাচার্যের বিরুদ্ধে অসত্য ও বানোয়াট অভিযোগ উত্থাপন করে তাঁকে তথাকথিত ট্যাগিং দেওয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।

শিক্ষার্থীরা জানান, বর্তমানে দেশের অনেক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ৫ আগস্টের পূর্বে নিয়োগকৃত উপাচার্যের মাধ্যমে পরিচালিত হলেও, বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে আচার্য কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত বর্তমান উপাচার্যের বিরুদ্ধে কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়াই এ ধরনের ট্যাগিং অত্যন্ত নিন্দনীয়। তারা বর্তমান উপাচার্যকে একজন কর্তব্যনিষ্ঠ, ভিশনারি ও শিক্ষার্থীবান্ধব ব্যক্তিত্ব হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ব্যক্তিগত বিদ্বেষ থেকে মব তৈরি করে সাধারণ শিক্ষার্থীদের উসকানি দেওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সুরক্ষা, মর্যাদা ও একাডেমিক স্থিতিশীলতার জন্য মারাত্মক হুমকি।

বিশেষ করে গত ১৬ ফেব্রুয়ারি ক্যাম্পাসে সংঘটিত অহেতুক হট্টগোল ও বিশৃঙ্খল আচরণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করেছে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার পাশাপাশি নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশকে বিপন্ন করছে। শিক্ষার্থীরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে, কোনো ধরনের মব ভায়োলেন্স, উসকানিমূলক স্লোগান বা আইনবহির্ভূত আচরণ বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলার পরিপন্থী। শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবি উপস্থাপনের প্রাতিষ্ঠানিক পথ থাকলেও সহিংসতা বা অপপ্রচার কোনো সমাধান নয়।

এমতাবস্থায় শিক্ষার্থীরা প্রশাসনের কাছে ৫টি সুনির্দিষ্ট দাবি জানিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে: ১৬ ফেব্রুয়ারির ঘটনায় জড়িতদের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে চিহ্নিত করে দ্রুত দৃশ্যমান প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ; ভবিষ্যতে মব ভায়োলেন্স ও অরাজকতা রোধে কার্যকর নীতিমালা ও নজরদারি জোরদার করা; সকল শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মচারীদের জন্য নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ একাডেমিক পরিবেশ নিশ্চিত করা; ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক তৎপরতা বৃদ্ধি করা এবং কোনো অভিযোগ উত্থাপিত হলে তা প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনসম্মত প্রক্রিয়ায় যাচাই করার সুস্পষ্ট নীতি গ্রহণ করা।

শিক্ষার্থীরা আশা প্রকাশ করেন যে, অভিভাবকের কষ্টার্জিত অর্থে পড়াশোনা করতে আসা শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে এবং বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি আদর্শ ও শিক্ষাবান্ধব প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলবে।