২০০২ সালের একটি অস্ত্র মামলায় ১০ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত মো. আলমাছ বর্তমানে কানাডায় অবস্থান করছেন। অথচ একই নামের বিভ্রান্তিতে অন্য এক আলমাসকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে রাখা হয়। প্রায় এক বছর ধরে কারাভোগ করা ওই ব্যক্তির বিষয়ে তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনার পর তাকে দ্রুত মুক্তির নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
রোববার (৮ নভেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মহিউদ্দিন হানিফ। এর আগে হাইকোর্টে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের পর বিষয়টি নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেন বেঞ্চের দুই বিচারপতি।
নামের মিলের কারণে প্রকৃত দণ্ডিত আসামির পরিবর্তে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, এমন অভিযোগ তুলে কারাবন্দি মো. আলমাস হাইকোর্টে রিট করেন। ওই রিটের পরিপ্রেক্ষিতে গত ৬ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট একটি রুল জারি করেন। একই সঙ্গে কারাগারে থাকা আলমাস এবং ২০০২ সালের অস্ত্র মামলায় দণ্ডিত ব্যক্তির পরিচয় ও বিস্তারিত তথ্য যাচাই করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।
তদন্ত প্রতিবেদনের সার্বিক আলোচনা ও বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, সরেজমিন অনুসন্ধান এবং সংশ্লিষ্ট মামলার নথিপত্র পর্যালোচনায় নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, ভুল ব্যক্তিকে অর্থাৎ মো. আলমাসকে (পিতা: শেখ খলিল, গ্রাম: সুন্দরীপাড়া, ইউনিয়ন: কুসুমহাটি, থানা: দোহার, জেলা: ঢাকা) গ্রেপ্তারের পেছনে মূলত তিনটি কারণ রয়েছে।
প্রথমত, গ্রেপ্তার হওয়া মো. আলমাস ২০০৭ সালের আগে সপরিবারে দক্ষিণ বাহ্রা ডাকঘরের অধীন ব্রাহা গ্রামে বসবাস করতেন। অন্যদিকে, প্রকৃত দণ্ডিত আসামির গ্রামের নাম পূর্ব ধোয়াইর, যা একই ডাকঘরের আওতাভুক্ত। ফলে ডাকঘরের নাম ব্যবহার করে ঠিকানা পরিচয় দেওয়ার প্রচলিত রীতির কারণে দুজনের ঠিকানায় মিল তৈরি হয়।
দ্বিতীয়ত, দুই ব্যক্তির পিতার নামেও যথেষ্ট সাদৃশ্য ছিল। প্রকৃত দণ্ডিত আসামির পিতার নাম মো. খলিলুর রহমান, খলিল আহম্মেদ অথবা মো. আবুল খায়ের (খলিল) হিসেবে বিভিন্ন নথিতে উল্লেখ রয়েছে। অন্যদিকে, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির পিতার নাম শেখ খলিল। পিতার নামের এই সাদৃশ্যও পরিচয় শনাক্তের ক্ষেত্রে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে।
তৃতীয়ত, ২০০২ সালের অস্ত্র মামলায় দণ্ডিত মো. আলমাছের ঠিকানা নথিভুক্ত করার সময় ‘পূর্ব ধোয়াইর’-এর পরিবর্তে ভুলবশত ‘দক্ষিণ বাহ্রা’ লেখা হয়। পরবর্তী সময়ে তৈরি হওয়া নথিপত্রেও এই ভুল সংশোধন করা হয়নি। এমনকি মামলার রায় ঘোষণার পর জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানাতেও প্রকৃত আসামির ঠিকানা ‘পূর্ব ধোয়াইর’-এর পরিবর্তে ‘দক্ষিণ বাহ্রা’ উল্লেখ করা হয়।






